‘সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব নয়’, কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ দুই মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতা-নেত্রীর
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ চলছিল দুই মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী মঙ্গল ও মালতীর। শুক্রবার কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কে. নন্দের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন তারা। আত্মসমর্পণের সময় পুলিশের হাতে তুলে দেন একটি AK-47 এবং একটি অ্যাসল্ট রাইফেল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গল ও মালতী দু’জনেই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। মঙ্গলের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে এবং মালতীর বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে। তবে তাদের মাওবাদী কার্যকলাপ মূলত ঝাড়খণ্ডেই সীমাবদ্ধ ছিল। খুব কম ক্ষেত্রেই তারা পশ্চিমবঙ্গে অভিযান চালিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, মঙ্গল প্রথমে ঝাড়খণ্ডের ডালমা এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপে যুক্ত হন। পরে সারান্ডা অঞ্চলে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মঙ্গলের পর মালতীও বামপন্থী চরমপন্থী আন্দোলনে যোগ দেন। প্রথম থেকেই তার কার্যকলাপ মূলত ঝাড়খণ্ডকেন্দ্রিক ছিল।
পুলিশের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার চাপের মুখে চলতি বছরের শুরু থেকেই ঝাড়খণ্ডের সারান্ডা জঙ্গল এলাকা ছাড়তে শুরু করেন মাওবাদীরা। সেখানে তাদের পক্ষে কার্যকলাপ চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল।
নিরাপত্তা বাহিনীর তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৩ জন মাওবাদীর নাম ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডে তিন মাওবাদী গ্রেফতার হন। কয়েক মাস আগে কলকাতায় আত্মসমর্পণ করেন পুষ্পা নামে এক মাওবাদী নেত্রী। এবার মঙ্গল ও মালতীও কলকাতা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন।
পুলিশের তরফে মঙ্গলের মাথার দাম ৫ লক্ষ টাকা এবং মালতীর মাথার দাম ২ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল।
আত্মসমর্পণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় কে. নন্দ জানান, মঙ্গল ২০১০ সালের কাছাকাছি সময়ে মাওবাদী আন্দোলনে যোগ দেন। ২০১১-১২ সালের পর তিনি ঝাড়খণ্ডে চলে যান। নিহত মাওবাদী নেতা কোটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজির ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন মঙ্গল। ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় কিষেণজির।
কেন আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিলেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মঙ্গল বলেন, ‘সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে যে সামাজিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, তা তিনি উপলব্ধি করেছেন।’
মঙ্গলের কথায়, “আমরা দু’জনেই হিংসার পথ ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেই কারণেই এখানে এসে আত্মসমর্পণ করেছি।”

