Saturday, August 1, 2026
খেলারাজ্য​

কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলেন ত্রিপুরার মেয়ে অস্মিতা দে, ধন্যবাদ জানালেন যোগী আদিত্যনাথকে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতের জুডোকা অস্মিতা দে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতেছেন। ফাইনালে তিনি কানাডার হেইডি কোয়াচকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য অর্জন করেন। জয়ের পর তিনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে (Yogi Adityanath) ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর সমর্থনই এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে এই জয়ের মাধ্যমে ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি স্বর্ণ যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কমনওয়েলথ মঞ্চে ভারতীয় জুডোর জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফাইনালের পর ত্রিপুরায় জন্মগ্রহণকারী, বর্তমানে বারাণসীতে বসবাসকারী এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কর্মী অস্মিতা দে বলেন, “স্বর্ণপদক জিততে পেরে আমি খুবই খুশি। যারা আমাকে সমর্থন করেছেন, তাদের সকলের জন্যই এই পদক। উত্তর প্রদেশ পুলিশে আমাকে চাকরি দেওয়ার জন্য আমি যোগীজিকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

ফাইনালের আগে নিজের মানসিক প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “আজ আমার মনে শুধু একটাই কথা ছিল—আজ ৪৮ কেজি বিভাগে আমিই সেরা, আর আমাকে স্বর্ণ জিততেই হবে। দেশের জন্য, নিজের জন্য, আমার কোচ, বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন—সবার জন্য। আমি উত্তরপ্রদেশ পুলিশে কাজ করি এবং যোগী আদিত্যনাথকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি আমাকে এই চাকরি দিয়েছেন। এই চাকরির মাধ্যমে আমার পরিবার আর্থিক সহায়তা পেয়েছে, যার ফলে আমি এখানে এসে স্বর্ণপদক জিততে পেরেছি।”

অস্মিতা জানান, চাকরির মাধ্যমে পাওয়া আর্থিক নিরাপত্তা তাঁকে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, ফাইনালের আগে বাধ্যতামূলক র‌্যান্ডম ওয়েই-ইনের কারণে তাঁকে নিজের ওজন খুব সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়েছে।

অস্মিতা বলেন, “আসলে আমি খুব বেশি খেতে পারিনি, কারণ র‌্যান্ডম ওয়েই-ইনে ৫০ কেজির নিচে থাকতে হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় আমার ওজন ছিল ৫০ কেজি ৩০০ গ্রাম। তাই বেশি খেতে পারিনি। পরে যখন র‌্যান্ডম ওয়েই-ইনের জন্য আমার নাম ডাকা হয়, তখন আমি প্রস্তুতই ছিলাম। ওয়েই-ইন শেষ করার পর খাওয়া-দাওয়া করি এবং প্রায় এক ঘণ্টা পরে আমার ফাইনাল ম্যাচ ছিল।”

এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ফাইনালে তিনি শান্ত থেকে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ও কৌশলগত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অভিজ্ঞ কানাডিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন।

পুরো প্রতিযোগিতাজুড়েই অস্মিতা দে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করেন। প্রাথমিক পর্বগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অতিক্রম করার পর স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে নিজের সেরা খেলাটি উপহার দেন।

এই জয় ভারতীয় জুডোর ক্রমবর্ধমান শক্তির আরেকটি প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি, এটি আরও বেশি তরুণ খেলোয়াড়কে জুডো খেলায় আগ্রহী করে তুলবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এই স্বর্ণপদক কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের অভিযানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং গ্লাসগোতে ভারতের সাফল্যের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যোগ করেছে।