Friday, April 12, 2024
আন্তর্জাতিক

উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ করছে চিলি

দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের দেশ চিলি উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাচলেট এ সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। সমুদ্রে ভাসমান প্লাস্টিক সংগ্রহ বন্ধের লক্ষ্যে শতাধিক উপকূলীয় এলাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে।

ব্যাচলেট বলেন, আমাদের উপকূলের সামুদ্রিক মাছ প্লাস্টিক খেয়ে বা গলায় আটকে মারা যাচ্ছে। এটি এমন একটি কাজ যা বাস্তবায়নে অবশ্যই সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।’

দেশটিতে কেবল ১০২টি উপকূলীয় গ্রাম ও শহরেই নয়, এর বাইরেও প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।

আমেরিকার সায়েন্স ম্যাগাজিনে ২০১৫ সালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরে প্রায় ৮০ লাখ টন প্লাস্টিক সমুদ্রে ফেলা হচ্ছে যা পরিবেশের জন্যে মারাত্মক হুমকি।

প্লাস্টিক ব্যাগ

দ্য ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড জানায়, প্লাস্টিক ব্যাগকে বিদায় জানানোর ক্ষেত্রে চিলির এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

ডব্লিউডব্লিউএফ’র চিলি প্রধান রিকার্দো বোশার্দ বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে পার্লামেন্ট সদস্যরা দেশের মঙ্গলের জন্য এই পদক্ষেপের প্রতি জোরালো সমর্থন জানাবেন।’

উল্লেখ্য, পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সিকিম সরকার। উত্তর সিকিমের লাচুং ও লাচেন গ্রামে নিষিদ্ধ করা হয়েছে প্লাস্টিকের জলের বোতল। নির্দেশ অমান্য করলে মোটা অংকের জরিমানা গুনতে হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে।

ভারতের কোকো সৈকতে প্লাস্টিক বর্জ্য

প্রসঙ্গত, নিয়মিত প্লাস্টিক পদার্থের ব্যবহার প্লাস্টিক দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে৷ পলিথিন ব্যাগ, কসমেটিক প্লাস্টিক, গৃহস্থালির প্লাস্টিক, বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যের বেশিরভাগই পুনঃচক্রায়ন হয় না৷ এগুলো পরিবেশে থেকে বর্জ্যের আকার নেয়৷ প্লাস্টিক এমন এক রাসায়নিক পদার্থ যা পরিবেশে পচতে অথবা কারখানায় পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করতে প্রচুর সময় লাগে ৷ তাই একে “অপচ্য পদার্থ” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সাধারনত উদ্ভিদকূল, জলজ প্রাণী, দ্বীপ অঞ্চলের প্রাণীরা প্লাস্টিক বর্জ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে৷ প্লাস্টিক বর্জ্য ঐসকল প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান ও উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহনের পথে বাধার সৃষ্টি করে। শুধুমাত্র উদ্ভিদ বা জলজ প্রাণী নয়, মানুষ প্লাস্টিক দূষণের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ৷ থাইরয়েড হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য প্লাস্টিক দূষণ পরোক্ষভাবে দায়ী৷ শুধুমাত্র আমেরিকাতে প্রতিবছর ৫ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহৃত হয় ৷ এগুলোর মধ্যে মাত্র ২৪ শতাংশ পুনঃচক্রায়ন হয়ে থাকে ৷ অন্য ৩.৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য আকারে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। যেহেতু প্লাস্টিক অপচ্য পদার্থ , তাই সৃষ্টির পর পুনঃচক্রায়ন না হওয়া পর্যন্ত এটি পরিবেশে অবস্থান করে ৷ এটি নিয়মিত প্রাণীর খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়ছে (মাইক্রো কণাসমূহ) ,যা প্রাণীর জন্য খুবই বিপদজনক ৷ বিভিন্ন উপায়ে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশের ভারসম্যকে নষ্ট করছে৷