Tuesday, November 3, 2026
Latestদেশ

ত্রিপুরায় চোরাচালানবিরোধী অভিযানে BSF জওয়ানদের উপর বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা, গ্রেফতার ৮

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চলাকালীন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে আক্রান্ত হলেন চার বিএসএফ (BSF) জওয়ান। সোমবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে ত্রিপুরা পুলিশ এবং ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধীনে আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্ট (BOP)-এর বিএসএফ জওয়ানরা চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালাচ্ছিলেন। সেই সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে হেফজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন এক বিএসএফ জওয়ান। এরপর তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বক্সানগর-রহিমপুর সড়ক অবরোধ করেন। এর জেরে এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষে বিএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার-সহ চারজন জওয়ান আহত হন।

ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রোহিত কুমার ও তাঁর দল ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই উত্তেজিত জনতা তাঁদের দিকে ছুটে আসে। কয়েকজনের হাতে বাঁশের লাঠি দেখা যায়। বিএসএফের গাড়িতেও হামলা চালানো হয় এবং গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে দেওয়া হয়।

এক বিএসএফ জওয়ান জনতাকে আটকানোর চেষ্টা করলে দু’জন গ্রামবাসী বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর পায়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, কয়েকজন রোহিত কুমারকে রাস্তার পাশে ঘিরে ধরে মারধর করেন। হামলাকারীদের মধ্যে একজন তাঁর অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।

ভিডিওতে দেখা যায়, মাথা ও হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার পর একসময় মাটিতে পড়ে যান রোহিত কুমার।

আহত বিএসএফ জওয়ানদের প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বক্সানগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (PHC) নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁরা নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার নিন্দা মুখ্যমন্ত্রীর

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে তিনি জানান, ‘আশাবাড়ি ও বক্সানগরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই আটজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মীদের উপর কোনও ধরনের হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।’