Friday, April 12, 2024
দেশ

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেল মহারাষ্ট্রের সেই ‘মানুষখেকো’ বাঘিনী

মারা গেল মহারাষ্ট্রের আলোচিত সেই মানুষখেকো বাঘিনী। তবে গুলিতে নয়, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মৃত্যু হল ব্রহ্মপুরীর এই বাঘিনীর। শনিবার ভোররাতে ক্ষেতের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে প্রাণ হারায় এই বাঘিনী।

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান অনুযায়ী, সিন্ধি ভিহিরিতে ভগবান টেকামের ক্ষেতের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বাঘিনীর মৃতদেহ। নাভারগাঁও থেকে এই জায়গার দূরত্ব মাত্র দুই কিমি।

ক্ষেতের মালিক টেকাম জানান, তৃণভোজী প্রাণীদের থেকে ফসল বাঁচানোর জন্যেই বিদ্যুতের তার লাগিয়েছিলেন তিনি।

ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ভগবান টেকামকে। তবে শুধু তিনিই নন, বোর টাইগার রিজার্ভের আসপাশের ১৩৮ বর্গফুটের মধ্যে প্রত্যেক চাষিই বন্য পশুর থেকে ফসল বাঁচানোর জন্যে বিদ্যুতের তার ব্যবহার করেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বন্যপ্রাণী প্রেমী সরোশ লোধি জানিয়েছেন, শনিবার ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ ক্ষেতে লাগানো বিদ্যুতের তার পেরোতে গিয়েই শক লাগে তার। সেখানেই মৃত্যু হয় বাঘিনীর।

ওয়াইল্ডলাইফ প্রোটেকশন সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার দায়িত্বে থাকা নিতীন দেশাই জানিয়েছেন, অবৈধ বিদ্যুৎ বেড়ার জন্যে বন্য পশুদের বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এটা রোধ করাই এখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাঘিনীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে নাভারগাঁওতে। ময়নাতদন্তের পর সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে বন দপ্তরের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে।

এই বাঘিনীর হাতে চারজন মানুষের জীবন যাওয়ার পর এটিকে হত্যার জন্য গত ২৩শে জুন নির্দেশ জারি করে মহারাষ্ট্রের বন বিভাগ। কিন্তু মহারাষ্ট্রের আদালতে এই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে পশু অধিকার কর্মীরা। গত জুলাই মাসে মহারাষ্ট্রের ব্রাহ্মপুরিতে বাঘিনীটি দুজন মানুষকে হত্যা করে। এটির আক্রমণে আহত হয় আরও চারজন। এরপর বন বিভাগের হাতে এটি ধরা পড়েছিল। কিন্তু রেডিও কলার পরিয়ে এটিকে আবার একটি টাইগার রিজার্ভে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর এই বাঘিনীর হামলায় নিহত হয়েছে আরও দুজন মানুষ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিশ্বে যত বাঘ আছে, তার ৬০ শতাংশই ভারতে। কিন্তু বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে এবং শিকারিদের উৎপাতে বাঘের সংখ্যা কমে গেছে অনেক। ২০১৫ সালে ভারতে ৮০টি বাঘ মারা গেছে। এর আগের বছর মারা গেছে ৭৮ টি।