হাসপাতালে ফ্লাইদুবাইয়ের ‘হিরো’ পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে দেখতে গেলেন দুবাইয়ের যুবরাজ, স্নেহচুম্বনের ছবি শেয়ার
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ফ্লাইদুবাইয়ের ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করলেন দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। মাঝ আকাশে কো-পাইলটের হামলার পর গুরুতর আহত স্মিত বর্তমানে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিপদের মধ্যেও ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সতর্ক করে বিমানটিকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি।
স্মিতের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা জানিয়েছেন ক্রাউন প্রিন্স। এক্সে তিনি লেখেন, “আমাদের পক্ষ থেকে এবং দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও প্রশংসা রয়েছে। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ, আমাদের দেশের গল্পের অংশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যে মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে, তারও অংশ—সহানুভূতি, শান্তি এবং জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতার।”
হাসপাতালে স্মিতের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁকে আলিঙ্গন করার ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটি দুবাই থেকে তেল আবিব যাচ্ছিল। বিমানের ক্যাপ্টেন ছিলেন স্মিত মাচ্ছার এবং কো-পাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি। অভিযোগ, মাঝ আকাশে হামাম ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স দিয়ে স্মিতের উপর হামলা করেন এবং বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।
দুই পাইলটের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় বিমানটি কয়েক মিনিটের মধ্যে কয়েক হাজার ফুট নীচে নেমে যায় এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। গুরুতর আহত অবস্থাতেও অসাধারণ সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে স্মিত ককপিটের দরজা খুলে যাত্রীদের সতর্ক করেন। এরপর যাত্রীরা দ্রুত ককপিটে গিয়ে হামলাকারী কো-পাইলটকে কাবু করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল করা হয়। পরে অফ-ডিউটি পাইলটরা বিমানটি অবতরণে সহায়তা করেন।
স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে, কো-পাইলটের বিমান ভেঙে ফেলার অভিযোগের নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে হামাম আল-হাম্মামিকে এর আগে ওমানে বিমান চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এই তথ্যের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা ঘটনাটির সঙ্গে কোনও ধরনের “সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বা উদ্দেশ্য” যুক্ত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন।
হামাম আল-হাম্মামি ওমানের নাগরিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওমানের নাগরিক এবং মা সিরিয়ার নাগরিক। জীবনের বেশ কয়েক বছর তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেই কাটিয়েছেন।
অন্যদিকে, গুরুতর আহত স্মিত মাচ্ছার বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “ভারতের সাহসী সন্তান ক্যাপ্টেন স্মিত বর্তমানে অত্যন্ত ভালো চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাঁর পরিবার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি। তাঁর চিকিৎসায় যত্ন নেওয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সরকারকে ধন্যবাদ। তাঁর দ্রুত আরোগ্যের জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে আমরাও প্রার্থনা করছি।”
স্মিতের বাবা ভূপেন্দ্র মাচ্ছার জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের ক্ষত সম্পূর্ণ সেরে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

