Friday, July 31, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

মরক্কো থেকে স্পেনের প্রবেশের চেষ্টা কয়েক হাজার অভিবাসীর, সংঘর্ষে মৃত অন্তত ৯ জন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: স্পেনের সেউতায় অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত ৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মরক্কো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সেউতা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রায় ২০০০ থেকে ৩০০০ অভিবাসী শহরটিতে প্রবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবারও কয়েকশ মানুষ একযোগে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠলে সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট হেসুস ভিভাস একে ‘মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে সেনা মোতায়েনের আহ্বান জানান।

যদিও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি নাকচ করে জানায়, অভিবাসন সংকট বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী জাতীয় জরুরি অবস্থার আওতায় পড়ে না। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত সহায়তা পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয় এবং পরে ৬০ জন সেনা সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা করা হয়।


স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক অভিবাসী ‘আল্লাহ আকবর’, ‘ভিভা এস্পানিয়া’ (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিতে দিতে সেউতায় প্রবেশ করছেন। তাদের অনেকেই মরক্কোর উপকূল থেকে ভাসমান নৌযান বা ফোলানো টিউব ব্যবহার করে সমুদ্রপথে সীমান্ত অতিক্রম করেন। অন্যরা স্থলসীমান্তের উঁচু বেড়া টপকে শহরে ঢোকার চেষ্টা করেন।

অভিবাসী অধিকারকর্মী জাকারিয়া জাররোকির দাবি, ২০২১ সালের মে মাসে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার মরক্কান ও সাব-সাহারান অভিবাসীর সেউতায় প্রবেশের ঘটনার সঙ্গে এবারের পরিস্থিতির মিল রয়েছে। তার মতে, মরক্কোর ফনিদেক শহরে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় অবস্থান করছেন।


উল্লেখ্য, সেউতা ও মেলিয়া উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহর এবং এগুলোই আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। উন্নত জীবন, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার আশায় বহু অভিবাসী প্রতি বছর এই সীমান্ত দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন।


সম্প্রতি স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, সেউতা বা মেলিয়ায় পৌঁছানোর পথে সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দাবি, এই রায়ের পর থেকেই সীমান্তে অভিবাসীর চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবপাচারকারী চক্র আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে কাজে লাগিয়ে মানুষকে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশে উৎসাহিত করছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য শুক্রবার সেউতা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কার।

অবৈধ অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক

অবৈধ অভিবাসনকে ঘিরে ইউরোপে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যার পরিবর্তন, সীমান্ত নিরাপত্তা, সামাজিক সংহতি, শ্রমবাজার এবং নিরাপত্তা নীতিকে কেন্দ্র করে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। একই সঙ্গে বহু গবেষক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা মনে করে, যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকার সংকটই অনিয়মিত অভিবাসনের প্রধান চালিকাশক্তি।

এ প্রসঙ্গে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে, পৃথিবীতে ৫৭টির বেশি মুসলিম প্রধান দেশ। তারা কেন এই শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে না?