Wednesday, May 27, 2026
Latestরাজ্য​

‘গন্দা’ ধর্ম, ‘একটা কমিউনিটি ১ সেকেন্ডে ১২টা বাজিয়ে দেবে’, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করায় মমতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। ২০২৫ এবং ২০২৬ সালে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে ঘিরে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগকারিণীর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক মন্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে এবং সমাজে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, রেড রোডের একটি সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি এই গন্দা ধর্মকে মানি না।” অভিযোগকারিণীর প্রশ্ন, কোন ধর্মকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করা হয়েছিল এবং কেন এমন মন্তব্য করা হল। তাঁর দাবি, বিশ্বের বহু মানুষ যে ধর্মকে আদর্শ হিসেবে মানেন এবং যাকে ঘিরে যুগ যুগ ধরে সাধু-সন্ত ও মুনি-ঋষিরা চর্চা করেছেন, সেই ধর্ম সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত আপত্তিকর।

এছাড়াও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে আরেকটি মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনেন ওই আইনজীবী। তাঁর অভিযোগ, প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “আমি আছি বলেই একটা বিশেষ সম্প্রদায় তোমাদের ১২টা বাজিয়ে দিচ্ছে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে একটি সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে গিয়ে অন্য সম্প্রদায়কে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আইনজীবীর কথায়, “একজন হিন্দু ভোটার হিসেবে আমি ভয় পেয়েছি। আমি এই ধরনের মন্তব্যকে সমর্থন করি না।”

অভিযোগকারিণীর আরও দাবি, এর আগেও তিনি অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তখন রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকায় তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে নতুন সরকার আসার পর ফের তিনি এই বিষয়ে সরব হয়েছেন এবং শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেকশন ৩৫১ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন), ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান বা প্ররোচনা), ৩৫৩ (ঘৃণা বা গুজব ছড়ানো), ৩৫৪ (ঈশ্বর বা ধর্মীয় ভয়ের মাধ্যমে কাউকে বাধ্য করা), ৩৫৬ (ফৌজদারি মানহানি) এবং ২৯৯ ধারা (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য বা কাজ করা)।

যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।