Tuesday, April 21, 2026
Latestদেশ

তুমুল বিতর্কের মুখে পিছু হটলো লেন্সকার্ট, নতুন পোশাক বিধি ঘোষণা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সম্প্রতি, ভারতের জনপ্রিয় চশমার ব্র্যান্ড লেন্সকার্ট (Lenskart) এক পোশাক নীতি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিতর্কের শুরু তখনই, যখন এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার একটি পোস্টে দাবি করেন, লেন্সকার্টের কর্তৃপক্ষ কর্মীদের হিজাব পরার অনুমতি দিলেও, টিপ বা তিলক পরা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ওঠে এবং ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

বিতর্কটি শুরু হয়, যখন ওই ইনফ্লুয়েন্সার সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোস্ট করেন। তিনি দাবি করেন, লেন্সকার্টের পোশাক নীতি অনুযায়ী, কর্মীরা অফিসে হিজাব পরতে পারেন, কিন্তু টিপ বা তিলক পরা যাবে না। যদিও সংস্থাটি ভারত ভিত্তিক, এবং বেশিরভাগ কর্মীই হিন্দু, এমনকি এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকার বিষয়টি বেশ বিতর্কিত হয়ে ওঠে।

এই পোস্টের পর, অনেকেই সংস্থার নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন এবং এটি নিয়ে নানা মন্তব্য এবং প্রতিবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন এক জায়গায় পৌঁছায় যে, লেন্সকার্টের সিইও পীযূষ বনসল এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে বাধ্য হন।

পীযূষ বনসল সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি পোস্টে জানান, ওই পোস্টে যে নথি শেয়ার করা হয়েছে, তা বর্তমানে সংস্থার নীতির সাথে মেলে না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “আমাদের নীতিমালায় ধর্মীয় আচরণ বা মতপ্রকাশের উপর কোনো বিধিনিষেধ নেই।” সিইও আরও জানান, “টিপ বা তিলক পরার বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আমরা আমাদের পোশাক নীতিগুলি নিয়মিত পর্যালোচনা করি এবং তা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়।”

এই বিতর্কের পর লেন্সকার্ট তাদের কর্মীদের জন্য নতুন পোশাক বিধি ঘোষণা করেছে। নতুন বিধিতে বলা হয়েছে যে, কর্মীরা স্টোরে বা অফিসে টিপ, তিলক, সিঁদুর, মঙ্গলসূত্র, হিজাব, পাগড়ি বা অন্যান্য ধর্মীয় চিহ্ন পরতে পারবেন। তবে, অফিসের পরিবেশ পেশাদার এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে হবে। নতুন পোশাক নীতিতে সংস্থার পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কর্মীরা সংস্থার দেওয়া টি-শার্ট, ডার্ক ব্লু জিন্স, এবং গাঢ় রঙের পা ঢাকা জুতো পরবেন।

তবে, কর্মীরা কিছু পোশাক পরতে পারবেন না, যেমন—ছেঁড়া বা বিবর্ণ পোশাক, বড় লোগো ওয়ালা টি-শার্ট, খোলা জুতো বা স্লিপার, বা এমন কোনো পোশাক যা আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক বার্তা দেয়।

লেন্সকার্টের নতুন নির্দেশিকায় এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে, তা হল কর্মীদের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশে কোনো বাধা না থাকা। সংস্থাটি কর্মস্থলে বহুত্ববাদ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে চায়।

সিইও পীযূষ বনসল এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে, লেন্সকার্ট ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানায়, এবং কর্মীদের ব্যক্তিগত পরিচয় তাদের কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা নয় বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

লেন্সকার্টের নতুন পোশাক নীতির পর, অনেকেই এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কর্মীদের ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা বহু প্রতিষ্ঠান এখনও পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তবে, কিছু মানুষ এখনও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং তারা মনে করেন, পোশাক নীতির ক্ষেত্রে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন ছিল।

লেন্সকার্টের এই বিতর্ক আসলে ভারতের একটি বৃহত্তর সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যে, কর্মীদের ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় পরিচয়কে সম্মান জানিয়ে পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে, ভবিষ্যতে অন্যান্য সংস্থাগুলির জন্য এটি একটি উদাহরণ হতে পারে যে, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের নীতিগুলি নির্ধারণ করা উচিত।

এই ঘটনা থেকে শিখতে হবে যে, সংস্থাগুলি যখন তাদের কর্মীদের জন্য নীতি তৈরি করে, তখন তা তাদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।