Saturday, May 30, 2026
Latestদেশ

‘মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে উল্লাস করছে বিরোধীরা’, জাতির উদ্দেশে ভাষণে দাবি মোদীর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস হয়নি। এই প্রেক্ষিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে দেশের নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ দেওয়া এই ভাষণে তিনি বিল পাশ না হওয়ার জন্য সরাসরি বিরোধী দলগুলির ‘সংকীর্ণ রাজনীতি’কে দায়ী করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, নারী শক্তির সম্মান রক্ষার লক্ষ্যে আনা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ পাশ না হওয়ায় তিনি ‘মা-বোনেদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী’। এরপরই তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির মতো বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান।

মোদীর অভিযোগ, বিলটি পাশ না হওয়ায় এই দলগুলির নেতারা ‘মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে হাততালি দিচ্ছেন’, উল্লাসে ফেটে পড়েছেন। তাঁর মতে, এই বিল ছিল নারীদের আত্মসম্মানের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা সব ভুলতে পারেন, কিন্তু নিজেদের অপমান কখনও ভুলতে পারেন না।’

এদিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও কড়া সুরে আক্রমণ করে বলেন, বিলটির বিরোধিতা করে তারা ‘পাপ’ করেছে। এমনকি, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ না হওয়ার ঘটনাকে ভ্রূণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “সৎ চেষ্টার ভ্রূণহত্যা করেছে কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের মতো দলগুলি।”

কংগ্রেসকে নিশানা করে মোদী বলেন, তিনি ভেবেছিলেন দলটি অতীতের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করবে। কিন্তু সেই সুযোগও তারা হাতছাড়া করেছে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস এখন ‘পরজীবীর মতো’ আঞ্চলিক দলগুলির উপর নির্ভর করে নিজেদের টিকিয়ে রেখেছে। পাশাপাশি বিরোধীদের পরিবারতান্ত্রিক দল বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ‘দীর্ঘদিন ধরে একই অজুহাত দেখিয়ে বিরোধীরা মহিলাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। তবে দেশের মানুষ এখন এই রাজনৈতিক কৌশল বুঝতে পেরেছেন।’

এই ঘটনার পর মহিলা সংরক্ষণ বিল ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ এর মূল লক্ষ্য ছিল লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা এবং মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। তবে ইন্ডিয়া জোটের বিরোধীতায় আটকে গেল বিলটি। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৩০টি।