Friday, April 17, 2026
Latestদেশ

সংসদীয় আসনের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা, ২৭২টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে: কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল কেন্দ্রীয় সরকার। লোকসভায় আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব আরও জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল।

বৃহস্পতিবার লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, ভবিষ্যতে দেশের প্রতিটি রাজ্যে সংসদীয় আসনের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লোকসভার মোট আসন সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮১৫-এ পৌঁছাতে পারে। এর মধ্যে ২৭২টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিন কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পেশ করে। এর মধ্যে অন্যতম সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল। পাশাপাশি ডিলিমিটেশন কমিশন এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত আইনের সংশোধনও প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সংসদে মহিলাদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠায় নতুন দিশা মিলবে।

এই বিশেষ অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তিন দিনের এই অধিবেশন মূলত বাজেট অধিবেশনের সম্প্রসারিত পর্ব হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। একই দিনে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। মনে করা হচ্ছে, তিনি লোকসভায় বক্তব্য রেখে নারী সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত বিলের পক্ষে বিরোধীদের সমর্থন চাইতে পারেন।

নারী সংরক্ষণ বিল ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। সংসদ ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ এবং সীমানা পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের তরফে অসমের সাংসদ গৌরব গগৈ দাবি করেন, লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখেই মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ করা হোক। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন ভিত্তিতে কেন্দ্র আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়াতে চাইছে। তাঁর অভিযোগ, নারী সংরক্ষণের আড়ালে শাসক দল নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে।

অন্যদিকে, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, সর্বদলীয় বৈঠকে সরকার আসন বৃদ্ধি সংক্রান্ত পরিকল্পনা স্পষ্ট করেছে। যদিও কংগ্রেস সেই বৈঠক বয়কট করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সরকারের যুক্তি, বহুদিন ধরে অপেক্ষমাণ এই বিল বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। যদিও ২০২৩ সালে নারী সংরক্ষণ বিল পাস হয়েছিল, তা এখনও কার্যকর হয়নি। নতুন সংশোধনীতে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে বিরোধী দলগুলি এই প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে—জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের কারণে নতুন ডিলিমিটেশনে তাদের আসন সংখ্যা কমে যেতে পারে।

সবমিলিয়ে, লোকসভায় আসন বৃদ্ধি ও নারী সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। প্রস্তাবগুলি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, তা বাস্তবায়িত হলে ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।