Asha Bhosle: প্রয়াত আশা ভোঁসলে
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, বর্ষীয়ান শিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। রবিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসে।
শনিবার সন্ধ্যায় আচমকাই শারীরিক অস্বস্তি শুরু হয় শিল্পীর। জানা যায়, তিনি প্রথমে নিজের অসুস্থতার কথা এক গৃহকর্মীকে জানান। এরপরই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও পরে তাঁর নাতনি জনাই ভোঁসলে সামাজিক মাধ্যমে জানান, শিল্পী অত্যন্ত ক্লান্ত ছিলেন এবং তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। পরিবারের তরফে গোপনীয়তা বজায় রাখার আবেদনও জানানো হয়।
পরিবার ও অনুরাগীরা আশাবাদী ছিলেন যে, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীতের এক যুগের অবসান ঘটল বলেই মনে করছেন অনেকেই।
দীর্ঘ কর্মজীবনে আশা ভোঁসলে বহু ভাষায় অসংখ্য গান রেকর্ড করেছেন। চলচ্চিত্র থেকে অ্যালবাম—সব ক্ষেত্রেই তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’—সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল বৈচিত্র্য, আধুনিকতা ও আবেগের অনন্য মিশেল।
সঙ্গীতজগতে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হন। এছাড়াও ২০০৮ সালে পান পদ্মভূষণ এবং ১৯৯৭ সালে গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। বাংলা গানেও তাঁর সমান দখল ছিল, যা তাঁকে বাঙালি শ্রোতাদের কাছেও অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে।
শিল্পীর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানান, ‘সোমবার সকাল ১১টা থেকে লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডেতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো যাবে। বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।’
প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, এই মহান সঙ্গীতপ্রতিভার মৃত্যুতে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং আশা ভোঁসলে প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর অসুস্থতার সময়ে দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন। তাঁর প্রয়াণে গোটা ভারতীয় সঙ্গীতজগত শোকস্তব্ধ।
আশা ভোঁসলের মৃত্যু শুধু একজন শিল্পীর প্রয়াণ নয়, এটি ভারতীয় সঙ্গীতের এক স্বর্ণযুগের অবসান। তাঁর কণ্ঠ, তাঁর সৃষ্টির উত্তরাধিকার চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের হৃদয়ে।


