Annapurna Yojana: বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক মহিলাকে মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Elections 2026) সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রচার জোরদার করেছে বঙ্গ বিজেপি। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে দলের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালিয়ে মানুষের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
নারী উন্নয়নকে অগ্রাধিকার
এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বার্তা হিসেবে সামনে আনা হয়েছে নারী উন্নয়নকে। বিজেপি জানিয়েছে, রাজ্যে নারীদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হবে। এই তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা হবে জীবিকা প্রকল্প, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রসার, শিক্ষা সহায়তা এবং নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের কাজে। দলের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আরও শক্তিশালী হবে।
সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি
‘পরিবর্তন যাত্রা’র মাধ্যমে উন্নয়ন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং কর্মসংস্থানের বার্তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিজেপি। দলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাই ক্ষমতায় এলে প্রথম দিকের সিদ্ধান্তগুলির মধ্যেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হবে বলে ঘোষণা করেছে তারা। গেরুয়া শিবিরের মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী এবং তাঁদের পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন।
কর্মসংস্থান ইস্যুতে প্রতিশ্রুতি
যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিয়েও সরব হয়েছে বিজেপি। দলের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বহু সরকারি পদ তুলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বিপুল সংখ্যক তরুণ চাকরির সুযোগ হারিয়েছেন। বিজেপির বক্তব্য, ক্ষমতায় এলে সেই পদগুলি পুনরায় চালু করা হবে এবং শূন্য পদে স্বচ্ছ ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ
সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে দলটি। বিজেপির দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায় এলে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলিতে সম্পূর্ণ বেড়া নির্মাণ করে অনুপ্রবেশ রোধ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।
কাটমানি সংস্কৃতি বন্ধের প্রতিশ্রুতি
এছাড়াও রাজ্যে ‘কাটমানি’ ও দাদাগিরির সংস্কৃতি বন্ধ করার কথাও বলেছে বিজেপি। দলের অভিযোগ, ব্যবসা থেকে নির্মাণ কাজ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিজেপির দাবি, ক্ষমতায় এলে এই সংস্কৃতি ভেঙে দিয়ে স্বাভাবিক ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
ব্রিগেডে মোদীর সভা
এরই মধ্যে জানা গেছে, আগামী ১৪ মার্চ কলকাতার ঐতিহাসিক বিগ্রেডে একটি বৃহৎ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বিজেপির দাবি, ওই সভা থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পাল্টা বার্তা?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নারী উন্নয়নকে সামনে রেখে বিজেপির এই প্রচার কার্যত রাজ্য সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক উপভোক্তা মহিলাকে মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
সেই প্রেক্ষিতেই মহিলাদের জন্য ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি ‘পরিবর্তন যাত্রা’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে সামনে আসছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।


