Tuesday, July 21, 2026
Latestকলকাতা

অনুপ্রবেশকারীদের পাকড়াও করতে তৎপর কলকাতা পুলিশ, তৈরি বিশেষ দল ‘STF-D’, নির্দেশিকা জারি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে এবার নজিরবিহীনভাবে কোমর বেঁধে নামল কলকাতা পুলিশ। কেন্দ্র সরকারের পূর্ববর্তী নির্দেশিকা এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর এবার খাস কলকাতায় অবৈধ অভিবাসী ও ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া বিদেশিদের ধরতে গঠিত হলো কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ দল, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এসটিএফ-ডি’ (STF-D)। রবিবার লালবাজারের তরফে এই মর্মে একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

৪ সদস্যের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স

লালবাজার সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশের এই বিশেষ টাস্ক ফোর্সে থাকছেন মোট চারজন সদস্য।

দলের নেতৃত্বে থাকবেন একজন ডেপুটি কমিশনার (DC) পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ অফিসার।

তাঁর সঙ্গে থাকবেন তিনজন ইনস্পেক্টর।

এই দলটির মূল কাজই হবে শহরের আনাচে-কানাচে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও থেকে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের খুঁজে বের করা এবং তাদের সমস্ত নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা।

কড়া আইনি পদক্ষেপ ও সমন্বয়

নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র চিহ্নিত করাই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হবে।

সরেজমিনে তদন্ত: সন্দেহভাজনদের খুঁজে বার করতে পুলিশ কর্মীরা সরাসরি ফিল্ডে নেমে বা সরেজমিনে যাচাইয়ের কাজ করবেন।

কঠোর আইন প্রয়োগ: নতুন ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ সহ সমস্ত প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যৌথ অভিযান: এই কাজের জন্য ডিভিশনাল ডিসি, ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (IB) এবং কলকাতা পুলিশের অন্যান্য সমস্ত বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে এসটিএফ-ডি। প্রয়োজনে অন্য যেকোনো বিভাগ বা ফোর্সের সাহায্য নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে এই দলকে।

আটক ও প্রত্যর্পণ: আইন অমান্যকারীদের আটক করা এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যর্পণের (ডিপোর্টেশন) জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে এই বিশেষ দল। একই সাথে পুরো প্রক্রিয়ার একটি স্থায়ী রেকর্ড বা নথিভুক্তকরণ বজায় রাখা হবে।

পুরনো মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও নজরদারি

নতুন অনুপ্রবেশকারীদের খোঁজার পাশাপাশি, পুরনো বিচারাধীন মামলাগুলির জট ছাড়াতেও তৎপর হয়েছে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের ডেপুটি কমিশনারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের সংক্রান্ত পুরনো মামলাগুলির অনুসন্ধান যেন দ্রুত শেষ করা হয়। বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্দিষ্ট সময়ে জানাতে হবে এসটিএফ-ডি-র কাছে। এরপর এই বিশেষ দল তাদের কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেবে যুগ্ম কমিশনার (Joint CP) পদমর্যাদার অফিসারদের কাছে, যার মাধ্যমে চূড়ান্ত রিপোর্ট পৌঁছাবে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের টেবিলে। অন্যদিকে, ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আটক ও প্রত্যর্পণের সামগ্রিক পদক্ষেপের বিষয়ে একটি বিশেষ রিপোর্ট পাঠানো হবে এফআরআরও (FRRO) এবং কলকাতা পুলিশকে।

লালবাজারের এই নয়া পদক্ষেপের পর পরিষ্কার, কলকাতায় বেআইনিভাবে থাকা বিদেশি ও অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে প্রশাসন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই ময়দানে নামছে।