Thursday, May 23, 2024
সম্পাদকীয়

ব্রিটিশ ভারতে হাওরাঞ্চলের মহান ব্যক্তিত্ব কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকার

সংগ্রাম দত্ত:

———-

তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে ও বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি অন্যতম জেলা কিশোরগঞ্জ। হাওর-বাঁওড়ঘেরা বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতির এক অনন্য জনপদ কিশোরগঞ্জ। ময়মনসিংহ গীতিকার চন্দ্রাবতী, মহুয়া-মলুয়ার দেশ এই কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নিদর্শন। শিল্প-সাহিত্য আর লোকসংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ও উর্বর জনপদ হিসেবে কিশোরগঞ্জ অসংখ্য কীর্তিমান মানুষের জন্ম হয়েছে, এদের মধ্যে একজন গুরুদয়াল সরকার। তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি আলোকময় সমাজের। এ জন্য তিনি শিক্ষার মশাল জ্বালাতে উদারচিত্তে দান করেছিলেন তারই উপার্জিত ধন-সম্পদ। 

দেশের ভাটির গভীর হাওরাঞ্চল কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার কাঠইর নামক এক অখ্যাত অজপাড়া গায়ে তাঁর জন্ম। তিনি ১২৬৯ বঙ্গাব্দের(১৮৬২ সাল) ১৬ ই আশ্বিন জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১৩৬২ (১৯৫৫ সাল) বঙ্গাব্দের ৬ ই অগ্রহায়ণ ৯৩ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। তাঁর পিতার নাম গোপীমোহন সরকার। গুরুদয়াল সরকারেরা ছিলেন তিন ভাই। কৃষ্ণদয়াল সরকার,গুরুদয়াল সরকার আর বিষ্ণুদয়াল সরকার। জন্মেছিলেন এক ধনাঢ্য কৈবর্ত পরিবারে। তাই কেউ কেউ তাঁকে কৈবর্ত রাজ হিসাবে ও উল্লেখ করেছেন। কৈবর্ত রাজ গুরুদয়াল সরকার পৈতৃক সুত্রে পেয়েছিলেন হাওর ভরা জমি আর তাঁদের ছিল পুরুষানুক্রমে বিল ইজারা নিয়ে মাছ ধরে মাছ বিক্রির ব্যবসা। সে আমলে ২০/৩০ গ্রামের মধ্যে ও কোন প্রাইমারি স্কুল ছিল না। তাই তাঁকে ঢোলে সামান্য শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। কেউ বলে তিনি টোলে পড়েছিলেন আবার কেউ বলে একেবারেই নিরক্ষর ছিলেন। শিক্ষার সুযোগ না থাকায় গুরুদয়ালের বেশি দূর লেখাপড়া হয়নি। টোল পাস করা গুরুদয়াল সরকার রামায়ণ, পদ্মপুরাণ ইত্যাদি পড়ায় অভ্যস্ত ছিলেন। উচ্চতর লেখাপড়ার অভাব ও অসুবিধা তিনি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

আঠারো শতকের শেষ বা উনিশ শতকের শুরুতে হাওরাঞ্চলে এই ধীবর জনগোষ্ঠীর অনেক অর্থ জমি সম্পদ ছিল। কিন্ত স্কুলের অভাবে তাদের মধ্যে লেখাপড়ার আগ্রহ তেমন ছিল না।

 

খালিয়াজুরীর সর্ব দক্ষিণ সীমানায় ধনু নদীর পূর্ব পাড়ে ইটনা থানার ধনপুর ইউনিয়নের ধনপুর গ্রাম ও বাজার। সুনামগঞ্জের সুরম্য নদী থেকে একটি শাখা সুরমা নামেই দিরাই থানার রাজানগর,শ্যামারচর বাজার,খালিয়াজুরীর কৃষ্ণপুর হয়ে নদীটি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ধনপুরে এসে ধনু নদীতে মিলিত হয়েছে। ধনপুর বাজারের পূর্ব পাশে গ্রামের একেবারে উত্তরে এই শাখা নদীর তীরে একটি বিশাল পাকা সাইড ওয়াল ও বাউন্ডারি করা একটি পুরানো বাড়ি। এটিই কাঠইর গুরুদয়াল সরকারের বাড়ি। কাঠইর একটি ছোট্ট গ্রাম। 

জানা যায় গুরুদয়াল সরকারের ছিল ৪০ টি হাল,৭০ টি নৌকা ছিল। গৃহস্থি থেকেই বছরে দুই হাজার মন ধান বিক্রি করতেন। জলমহালের মাছ ছাড়া ও ছিল ধনপুর বাজার ও রংপুরে শুটকির ব্যবসা। এখান থেকে রংপুরে শুঁটকি চালান দিতেন। বেতনভূক্ত কারিগর দিয়ে সারা বছর বাড়িতেই জাল তৈরি করতেন। অবশ্য সেই সময় ছিল জলমহাল ব্যবসায় ধীবর শ্রেণীভুক্ত কৈবর্ত জেলে ও মাঝি সম্প্রদায়ের অনুকূলে। জাল যার জল তাঁর। অন্ধ কুসংস্কার ও সামাজিক গোঁড়ামির কারণে উপরোক্ত তিন শ্রেণী ব্যতীত হিন্দু মুসলমান সবার মাছ ধরে বিক্রি করা বা জলমহালের ব্যবসা ছিল অঘোষিত ভাবে নিষিদ্ধ। এটি করলে তখনকার গৃহস্থ পরিবারের ছেলে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া সমস্যা হতো। তাই সামাজিক ও লোক নিন্দার ভয়ে মানুষ এ পেশায় জড়িত হতো না। পাকিস্তান আমলে ও হাওরাঞ্চলের বড় বড় জলমহাল ছিল এই কৈবর্ত সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণে। মহানন্দ বাবু ও শ্যামবাবু নামে দুই ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন এসব জলমহালের ইজারাদার। গুরুদয়াল সরকারের বাড়িতে দুর্গাপূজা সহ অন্যান্য পূজা পার্বণ হতো। বাড়িতে পাকা দুর্গা মন্দির টি ১৯২৯ সালে নির্মিত। নিজে শিক্ষিত না হলে ও নিজ বাড়িতেই তাঁর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যশধাময়ী ফ্রি প্রাইমারি স্কুল। যা এখন সরকারী স্কুল। যে আমলে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সহ সিলেটের অনেক অঞ্চলে শিক্ষা শুরুই হয়নি সেই আমলেই ইটনার জয়সিদ্ধির আনন্দ মোহন বসু ১৮৬৮ সালে ময়মনসিংহের প্রথম এমএ প্রথম বিলাতের ক্যামব্রিজ ডিগ্রি ও বাংলার প্রথম রেংলার। বসু পরিবার সারা বাংলায়তো বটেই গোটা ভারতবর্ষে এই পরিবারের পরিচিতি ছিল ।। কাঠইর থেকে দুই মাইল দূরের গ্রাম সহিলা থেকে ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ডঃ নীহার রঞ্জন রায়,ইটনা থেকে ব্যারিস্টার ভূপেশ গুপ্ত সেই আমলেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। ভুপেশ গুপ্ত ছিলেন ভারতের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতা। এই অঞ্চলের তিন জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে আছে তিনটি বিখ্যাত কলেজ। ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ,কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ ও হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ। বৃন্দাবন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইটনা থেকে ছয় মাইল দূরের হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের বিতঙ্গল গ্রামের বৃন্দাবন দাস। তিনি ও ছিলেন কৈবর্ত সম্প্রদায়ের মানুষ।

কিশোরগঞ্জ মহকুমা ( ১৯৮৪ সালে জেলা ঘোষণা করা হয় ) শহরে কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুদয়াল বাবুর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন জনশ্রুতি আছে। কিশোরগঞ্জের গন্যমান্য কিছু বিদ্যুৎসাহী ব্যক্তি বর্গের উদ্যোগ ও মহকুমা প্রশাসকের প্রচেষ্টায় ১৯৪৩ সালে ,৬ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়ে অস্থায়ী ভাবে এর যাত্রা শুরু হয়। তখনকার কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ও মঞ্জুরী পেতে গেলে দরকার কলেজের নিজস্ব জমি,অবকাঠামো ও নগদ অর্থ তহবিল। এতো বেশী পরিমাণ অর্থ কোন ভাবেই সংগ্রহ করা সম্ভবপর ছিল না। একটি জনশ্রুতি মতে বৈশাখে ফসল তোলার মৌসুমে কলেজের শিক্ষকেরা এসেছিলেন কলেজের জন্য চাঁদা হিসাবে ধান তুলতে। গুরুদয়াল বাবু তাদের নিকট থেকে যখন জানতে পারলেন কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন । তখন নাকি বলেছিলেন এক মন দুই মন করে ধান নিয়ে কি আর কলেজ করতে পারবেন। যদি কলেজ প্রতিষ্ঠার পুরো টাকাটাই আমি দিয়ে দেই। তখন শিক্ষক গন যেন হাতে আকাশ পেয়ে যান। একটি নির্দিষ্ট দিন তারিখে তাঁকে কিশোরগঞ্জ যেতে বলেন। সেই মোতাবেক তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। আর একটি জনশ্রুতি মতে ১৯৪৫ সালে কিশোরগঞ্জের এসিডও ছিলেন সাদত হোসেন চৌধুরী। তিনি ও কিশোরগঞ্জের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করেন। যাতে তিনি তাতে সারা দিয়ে এককালীন নগদ ৫০০০০ হাজার এক টাকা দান করেছিলেন। কথিত আছে কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁকে উৎসাহ দিয়ে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন তাঁর একমাত্র পুত্রবধু যোগমায়া। একমাত্র পুত্রের নাম ছিল মহানন্দ সরকার। যিনি কলিকাতায় মৃত্যু বরণ করেন। আরো জানা যায় যে এই ৪৮ হাজার এক টাকা ছিল ছান্দিনা বিলের প্রথম এক খেউয়ের ( জাল দিয়ে ঘেরাও করা এক বেড় বা এক টান) মাছ বিক্রির টাকা। এই টাকায় কলেজের জন্য সরকারী ভাবে দেওয়া ১৩ একর খাস জমির পাশে আরো জমি কিনে কলেজের নিজস্ব জায়গায় একতলা ভবন বিজ্ঞান ভবন তৈরি করে কলেজের তহবিল সহ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত পূরণ করে কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন লাভ করে। কলেজের নাম কিশোরগঞ্জ কলেজ পরিবর্তন করে নামকরণ হয় কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে। পাকিস্তান আমলে হিন্দু নামে স্হান ও প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ঢেউয়ে গুরুদয়াল কলেজ নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্ত কিছূ শুভবুদ্ধির সন্পন্ন মানুষের বাধায় তা হতে পারেনি ।

তখনকার সময় কিশোরগঞ্জে জমিদার সহ আরো অনেক ধনী ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু কলেজের সূচনা লগ্নে গাংগাটিয়া জমিদারসহ কিছু বিদ্যুৎসাহী প্রমিনেন্ট ব্যক্তি বর্গের অর্থ সাহায্য ব্যতীত অন্যদের সাহায্য পাওয়া যায়নি। কলেজ প্রতিষ্ঠার সময় একটি শর্ত ছিল তাঁর পরিবারের উত্তরাধিকারীদের সুপারিশে প্রতি বছর চারজন ছাত্র ছাত্রী বিনা বেতনে পড়তে পারবে। এই চুক্তি পত্রে স্বাক্ষর করার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ গুরুদয়াল সরকারকে জিজ্ঞাসা করেছিল কোন সম্প্রদায়ের চারজনকে আপনি বৃত্তি দিবেন। তাঁর সোজাসাপ্টা উত্তর ছিল ” সম্প্রদায় আবার কি? আমি কৈবর্ত মাছ বিক্রি করে খাই। আমার মাছ হিন্দু- মুসলিম,মালী- ঢুলি- চাড়াল,মেথর- ডোম সবাই কিনে খায়। বৃত্তি পেলে সব জাতের ছেলে মেয়েরা পাবে ” (তথ্য সুত্র কিশোরগঞ্জের ইতিহাস গ্রন্থ)। স্কুলে লেখাপড়া না করেও যে মানুষ অনেক মহৎ কাজ ও জ্ঞানের অধিকারী হতে পারেন গুরুদয়াল সরকার তার প্রমাণ। কলেজ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানালে কথিত আছে তিনি দুই নৌকা ভর্তি করে মিষ্টি,আম ও আনারস নিয়ে গিয়েছিলেন। তা দিয়েই অভ্যাগত অতিথি ও ছাত্র ছাত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। একটা সময়ে কৈবর্ত জেলে মাঝি সহ ধীবর সম্প্রদায় ছিল সমাজে পিছে পড়া। এখন আর সেই অবস্থা নেই। শিক্ষা দীক্ষা সহ সব ক্ষেত্রে সমাধান তালে এগিয়ে যাচ্ছে এই সম্প্রদায়। এক সময় সুনামগঞ্জ মহাকুমার ধীরাইয়ের অক্ষয় কুমার দাস ছিলেন এই সম্প্রদায়ের শীর্ষ ব্যক্তি। যিনি ছিলেন আসাম প্রাদেশিক মন্ত্রী ও পাকিস্তানে কয়েক টার্ম মন্ত্রী। এছাড়া আছেন অদৈত্ব মল্ল বর্মণ যিনি তিতাস পাড়ের জেলেদের জীবন চিত্র নিয়ে লিখেছেন বিখ্যাত উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নাম। আরো আছে একুশে পদক প্রাপ্ত গুণীজন লেখক ও শিক্ষাবিদ হরি শংকর জলদাস।

কিশোরগঞ্জ খড়মপট্টি স-মিলের কাছে গুরুদয়াল বাবুর একটি নিজস্ব বাসা ছিল ( হলুদ রংয়ের)। যা পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিবেশী গ্রাম খালিয়াজুরীর আদমপুর গোয়ালবাড়ীর চেয়ারম্যান ক্ষেত্রমোহন ভৌমিক ও চেয়ারম্যান দ্বারিকনাথ ভৌমিকদের যৌথ পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেন। গুরুদয়াল সরকারের বর্তমান উত্তরাধিকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে তাঁদের পূর্ব পুরুষ গুরুদয়াল সরকারের এই মহৎ কাজের সামাজিক সন্মান ও মর্যাদা তাঁরা অবশ্যই ভোগ করছে। যা তাঁদের প্রাপ্য।

মহাপ্রাণ এই ব্যক্তির উদার এই দানের স্বীকৃতিতে কলেজ প্রাঙ্গণে ২০০৯-এ স্থাপন করা হয় তাঁর আবক্ষ ভাষ্কর্য। 

অপ্রিয় সত্য হলেও দুঃখজনক এই যে ১৯৭৩ সালে সরকারীকরণের পর নাম পালটে যায় তাঁর বাড়ির প্রাঙ্গণে মায়ের নামে প্রতিষ্ঠা করা ‘যশোধাময়ী ফ্রি প্রাইমারি স্কুল’-এর। 

 সাধারণ মানুষের মনে করেন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশে ‘যমোধাময়ী’ নামটি রেখে সরকারিকরণ করা যেতো।

গুরুদয়াল সরকারের মতো মহৎ মানুষেরা কখনো হারিয়ে যান না। তাঁরা তাঁদের কর্মের মধ্যেই বেঁচে থাকেন কাল থেকে কালান্তরে প্রজন্মের পর প্রজন্মে। প্রাইমারি স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সমাজ পরিবর্তনে তাঁর ভূমিকা ও অবদান সম্পর্কে তিনি আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।