‘মোদীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব ভালো’, ভোল পাল্টে জানালেন ট্রাম্প
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভোল বদল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ভারত ও রাশিয়াকে চিনের অন্ধকারে হারিয়ে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি তিনি উভয় দেশের জন্য উন্নত ভবিষ্যতের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
কিন্তু পোস্টের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ট্রাম্পের ভোল সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। হোয়াইট হাউসে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার মনে হয় না আমরা ভারতকে হারিয়ে ফেলেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। আমরা দু’মাস আগে সাক্ষাৎ করেছি, রোজ গার্ডেনে সাংবাদিক বৈঠকও করেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, ভারতের সঙ্গে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ রয়েছে এবং এ সম্পর্কে কোনো ভয় বা উদ্বেগ নেই।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প ভারতের পণ্যে আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের বিষয়টি তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি হতাশ কারণ ভারত এত পরিমাণে তেল রাশিয়ার কাছ থেকে কিনছে।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে, ভারত আগেই স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক বাজার দর ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই তাদের বাণিজ্য নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়।
এদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ট্রাম্পের পোস্ট বা তার পরবর্তীকালে পরিবর্তিত অবস্থান নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি শুধু জানান, “আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক বিষয়গুলি নিয়ে ভারত নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।” একই সঙ্গে, আমেরিকার বাণিজ্য ও উৎপাদন বিষয়ক সিনিয়র কাউন্সেলর পিটার নাভারো ভারতের সঙ্গে সমস্যার ‘ইতিবাচক সমাধান’ পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ভারত রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পরও তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে, যার জন্য আমরা হতাশ। তবে ভবিষ্যতে সমাধানের আশাবাদ রয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিকভাবে হট্টগোল সৃষ্টি করা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বকে জনসম্মুখে তুলে ধরা। যদিও তার মন্তব্য প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও পরবর্তীকালে তার ব্যাখ্যা ও নিরুত্তাপ অবস্থান দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতাকে নির্দেশ করছে।
বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে স্থায়ী বন্ধুত্ব বা শত্রুতা নেই; বরং নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও জাতীয় স্বার্থের আলোকে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভারত এবং আমেরিকার সম্পর্কেও তা প্রযোজ্য। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা, রাজনৈতিক সংকট ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে ভবিষ্যতে এ সম্পর্কের স্বাভাবিককরণ আশা করা যায়।

