পশ্চিমবঙ্গে RSS-এর শাখার সংখ্যা ৫৩০ থেকে বেড়ে ২,৫০০-এরও বেশি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলার রাজনীতিতে দৃশ্যত মূলস্রোতের দলগুলির দাপট থাকলেও, নীরবে নিজেদের সংগঠন মজবুত করে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (Rashtriya Swayamsevak Sangh)। গত এক দশকেরও বেশি সময়ে রাজ্যে এই হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের শাখা ও ইউনিট বৃদ্ধির হার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সূত্রের দাবি, গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএস-এর শাখার সংখ্যা প্রায় ৫৩০ থেকে বেড়ে ২,৫০০-এরও বেশি হয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে মোট ইউনিট সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৩০, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৫৪০-এ। বিশেষ করে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মধ্যবঙ্গ অঞ্চলে ৫০০-র বেশি নতুন শাখা যুক্ত হওয়া এই বৃদ্ধিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
গ্রামের মাঠ থেকে শহরের পাড়া, প্রতিদিন সকালে নিয়মিত শাখা কার্যক্রম এখন অনেক জায়গায় চোখে পড়ছে। এই শাখাগুলিতে যুবক-যুবতীরা শারীরিক অনুশীলন, সাংস্কৃতিক আলোচনা এবং সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত হচ্ছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য রাজনৈতিক নয়, বরং সমাজে ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং সচেতনতা গড়ে তোলা।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই সাংগঠনিক বিস্তার পরোক্ষভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)-র জন্য একটি শক্তিশালী ভিত তৈরি করছে। গ্রামাঞ্চলে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, স্থানীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এসবের মাধ্যমে আরএসএস সমাজের এক বড় অংশের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে।
বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও মধ্যবঙ্গের জেলাগুলিতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের পিছনে এই গ্রাউন্ডওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল মেলেনি, তবুও গত কয়েক বছরে সংগঠনের ধারাবাহিক সম্প্রসারণ আগামী নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
আরএসএস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের আগে রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ইউনিট গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। টার্গেট ধরা হয়েছে প্রায় ৮,০০০ ইউনিট। এই লক্ষ্য পূরণে জোরকদমে কাজ চলছে বলে দাবি সংগঠনের।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই এই প্রশ্ন গুরুত্ব পাচ্ছে—আরএসএস-এর এই ক্রমবর্ধমান সংগঠনিক শক্তি বাংলার রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে? আপাতত সেই উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, নীরবে হলেও বাংলার মাটিতে নিজেদের জায়গা শক্ত করছে।


