Thursday, May 14, 2026
Latestদেশ

কর্ণাটকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল কংগ্রেস সরকার

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ২০২২ সালে কর্ণাটকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বিজেপি সরকার। তবে হিজাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল কংগ্রেস সরকার। বুধবার জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত স্কুল ইউনিফর্মের সঙ্গে এবার থেকে হিজাব, পবিত্র সুতো (জনিবারা), রুদ্রাক্ষ, শিবধারা এবং শরবস্ত্রের মতো সীমিত ধর্মীয় ও প্রথাগত প্রতীক পরতে পারবেন ছাত্রছাত্রীরা। সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সহ প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজগুলিতেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির সেই সরকারি নির্দেশ কার্যত বাতিল করা হল, যা ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিজেপি সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং জাতীয় রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে ওঠে।

নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি আগের মতোই নির্ধারিত ইউনিফর্ম বজায় রাখবে। তবে ইউনিফর্মের সঙ্গে সীমিত পরিসরে ধর্মীয় বা প্রথাগত প্রতীক পরার অনুমতি দেওয়া হবে। সরকার জানিয়েছে, এই প্রতীকগুলি ইউনিফর্মের বিকল্প হতে পারবে না এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা বা পরিচয় শনাক্তকরণে কোনও বাধা সৃষ্টি করা চলবে না।

সরকার যে প্রতীকগুলিকে অনুমোদন দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে হিজাব, জনিবারা বা পবিত্র সুতো, শিবধারা, রুদ্রাক্ষ এবং শরবস্ত্র। পাশাপাশি, একই ধরনের অন্যান্য প্রথাগত প্রতীকও অনুমোদিত হবে, যদি তা শিক্ষার পরিবেশে কোনও সমস্যা তৈরি না করে। তবে গেরুয়া শাল বা ‘স্যাফরন শল’ পরার অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজ্য সরকারের যুক্তি, এটি ধর্মীয় প্রতীকের আওতায় পড়ে না।

নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র এই ধরনের প্রতীক পরার কারণে কোনও ছাত্রছাত্রীকে স্কুল, শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষা কেন্দ্র বা শিক্ষামূলক কার্যকলাপ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। একইসঙ্গে কাউকে জোর করে এই প্রতীক পরতে বাধ্য করা যাবে না, আবার পরা থেকেও আটকানো যাবে না।

সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে এই নীতি ধর্মনিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন এবং পক্ষপাতহীনভাবে কার্যকর করা হয়। সংবিধানের সমতা, মর্যাদা, ভ্রাতৃত্ববোধ, ধর্মনিরপেক্ষতা, বৈজ্ঞানিক মনোভাব ও শিক্ষার অধিকারের মূল্যবোধ মেনে চলার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া স্কুল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং কমিটি (SDMC), কলেজ ডেভেলপমেন্ট কমিটি (CDC) এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে পোশাকের কারণে কোনও ছাত্রছাত্রী অপমান বা বৈষম্যের শিকার না হন।

দ্বাদশ শতকের সমাজ সংস্কারক বাসবন্নার “ইভা নমাভা” বা “এরা আমাদের মানুষ” দর্শনের কথাও উল্লেখ করেছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ককে খুশি করতেই কংগ্রেস সরকার ফের হিজাব ইস্যু সামনে আনছে। বিরোধী দলনেতা আর অশোক দাবি করেছেন, “ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি এবং মুসলিম তোষণের জন্যই কংগ্রেস এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এটি হিন্দু-বিরোধী সরকার এবং মানুষই এর জবাব দেবে।”

বিজেপি নেতা অমিত মালব্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, স্কুল হওয়া উচিত ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে একটি সমান শিক্ষার ক্ষেত্র। ধর্মীয় প্রতীকের অনুমতি দিয়ে শ্রেণিকক্ষে ধর্মীয় পরিচয়কে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।