Monday, December 15, 2025
Latestদেশ

বলেছিলেন ১৫০-র বেশি আসন পাবে জন সুরাজ পার্টি, পেলেন ০, রাজনীতি ছাড়বেন পিকে?

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন একাধিক সংবাদমাধ্যমে ভোটের ফল নিয়ে জোরাল দাবি করেছিলেন জন সুরজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। 

পিকে বলেন— মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ কোনওভাবেই ২৫টি আসনের গণ্ডি পেরোতে পারবে না। এমনকি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, জেডিইউ ২৫টির বেশি আসন পেলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

আর নিজের দল জন সুরজ পার্টি সম্পর্কে পিকের দাবি ছিল— দলটি হয় ১০-এর নিচে আসন পাবে, নয় ১৫০-র ওপরে।

ফল প্রকাশের পর দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। পিকের জন সুরজ পার্টি একটি আসনও পায়নি। অন্যদিকে নীতীশ কুমারের জেডিইউ ৮৫টি আসনে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। ফলত প্রশ্ন উঠছে— ভবিষ্যদ্বাণীতে এমন ভুলের পর কি সত্যিই রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ইতি টানবেন প্রশান্ত কিশোর?

‘রাজনীতি ছাড়ছেন না পিকে’— বললেন জন সুরজ পার্টির সভাপতি

দলের সভাপতি উদয় সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রশান্ত কিশোর রাজনীতি ছাড়ছেন না। তাঁর বক্তব্য, “প্রশান্ত কিশোর বিহারের উন্নয়নের জন্য রাজনীতি করেই যাবেন। আমরা জেডিইউ-র দয়ায় রাজনীতিতে আসিনি, তাই তাদের কথায় রাজনীতি ছাড়বও না। বিহারে প্রকৃত পরিবর্তন এলেই আমরা রাজনীতি ছাড়ার কথা ভাবতে পারি।”

উদয় সিং আরও দাবি করেন, এনডিএ-র বিপুল জয়ের পেছনে সরকারি প্রকল্পে নগদ বিতরণ বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এর ফলে বিহারের আর্থিক পরিস্থিতি চাপে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘নির্বাচনের মূল ফ্যাক্টর ছিলেন নীতীশ’ — জন সুরজের জাতীয় মুখপাত্র

দলের জাতীয় মুখপাত্র পবন বর্মা জানান, এই নির্বাচনে ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ ছিলেন নীতীশ কুমার। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ ধরে নিয়েছিল নীতীশ কুমারের যুগ শেষ। কিন্তু গত ২০ বছর ধরে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পুনর্গঠনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর ব্যক্তিগত সততা, সুশাসনের ভাবমূর্তি এবং বংশগত রাজনীতির বাইরে উঠে আসার চরিত্র তাঁকে আলাদা করে দিয়েছে।”

বর্মা আরও মনে করিয়ে দেন, একসময়ে নীতীশ কুমারকে দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দেখা হয়েছিল এবং বিহারের মহিলা ভোটারদের বড় অংশ এখনও তাঁর উপর আস্থা রাখেন।

পিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ 

নির্বাচনের আগে দেওয়া নিজের ‘রাজনীতি ছাড়ার’ চ্যালেঞ্জ কি তিনি মানবেন— তা নিয়ে জল্পনা চলছে। যদিও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, পিকের রাজনৈতিক যাত্রা থামছে না।

ফলত, ভবিষ্যতে বিহারের রাজনীতিতে পিকের ভূমিকা কীভাবে বদলাবে, তা নিয়েই এখন জোর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।