‘জিহাদি তৈরির কারখানা’ আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জনের বেশি চিকিৎসক ‘নিখোঁজ’
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ জন চিকিৎসকের হদিশ মিলছে না। বিস্ফোরণের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রথম ওঠার পর থেকেই এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা সামনে আসে। গত দু’দিন ধরে চলা তল্লাশি অভিযানে এই তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।
নিখোঁজ চিকিৎসকরা কি ‘ডক্টর টেরর মডিউল’-এর সঙ্গে যুক্ত?
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, নিখোঁজ চিকিৎসকদের নিয়ে দুটি প্রধান সন্দেহ তৈরি হয়েছে। প্রথমত, তাঁরা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কোনও সন্ত্রাসবাদী মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম তদন্তে জড়ানোয় আতঙ্কে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে থাকতে পারেন।
মুজাম্মিলের ডায়েরিতে ২৫–৩০ নাম, মিলছে নিখোঁজদের সঙ্গে
বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত মুজাম্মিলকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকেই গ্রেফতার করে এনআইএ। তার ব্যক্তিগত ডায়েরি থেকে ২৫–৩০ জনের নাম উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, এই নামগুলির অনেকটাই নিখোঁজ চিকিৎসকদের তালিকার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এতে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে যে বিস্ফোরণের নেপথ্যে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে অভিযান, ২০ চিকিৎসা-শিক্ষার্থী সন্দেহের তালিকায়
বিস্ফোরণের পরপরই এক হাজারেরও বেশি পুলিশ ও তদন্তকারী আল ফালাহ ক্যাম্পাসে বিশেষ অভিযান চালায়। সূত্রের দাবি, অন্তত ২০ জন চিকিৎসা-শিক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে ‘ডক্টর টেরর মডিউল’-এ যুক্ত থাকার সন্দেহ দানা বেঁধেছে।
নুহ জেলার যুবককে নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
এদিকে তদন্তকারীদের নজরে এসেছেন নুহ জেলার সুনহেড়া গ্রামের এক যুবক। তিনি সম্প্রতি চিন থেকে এমবিবিএস করে দেশে ফিরে আল ফালাহতে এক বছর ইন্টার্নশিপ করেন। তার ইন্টার্নশিপ শেষ হয় ২ নভেম্বর। পরিবারের দাবি, ওই দিনই তিনি বাড়ি ফেরেন।
গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ৯ নভেম্বর তিনি দিল্লির এইমসে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন, আর তার পরদিনই ঘটে দিল্লির বিস্ফোরণ। যুবকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার মোবাইল ফোন থেকে জঙ্গি সংগঠনের নম্বর ও কথোপকথনের রেকর্ড পাওয়া গেছে।
ভয়াবহ পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ে, হোস্টেল খালি করার হিড়িক
বিস্ফোরণের তদন্তে আল ফালাহর নাম জড়ানোর পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আমূল বদলে গেছে। বৃহস্পতিবার থেকেই ছাত্র-ছাত্রীরা হোস্টেল ছাড়তে শুরু করেছে। অনেক পরিবার সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, শুক্রবার প্রায় ২৫ শতাংশ হোস্টেল খালি হয়ে গেছে। পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, তারা আতঙ্কে রয়েছেন এবং পরিবারও চরম উদ্বেগে ভুগছে।
তদন্তের কেন্দ্রে ফরিদাবাদ–নুহ সংযোগ
নিখোঁজ চিকিৎসকদের অবস্থান, ভূমিকা এবং বিস্ফোরণকাণ্ডের যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। ফরিদাবাদ ও নুহ জেলার মধ্যে ছড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত যোগাযোগ, মেডিক্যাল ইন্টার্নশিপ নেটওয়ার্ক এবং শিক্ষার্থী-অভিযুক্তদের সংযোগ এখন তদন্তের কেন্দ্রে।


