Tuesday, April 14, 2026
Latestখেলা

Payal Nag: অপমান থেকে অলিম্পিয়ান মানসিকতা! চার অঙ্গ হারিয়েও বিশ্বজয়, ব্যাংককে জোড়া সোনা জিতলেন পায়েল নাগ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: একসময় তাঁর বেঁচে থাকাটাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছিল — ‘এইভাবে বাঁচার থেকে মরে গেলেই ভালো’ — এমন নির্মম মন্তব্য শুনতে হয়েছিল পরিবারকে। আর আজ সেই মেয়েই অসম্ভবকে সম্ভব করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গর্ব হয়ে উঠেছেন। পায়েল নাগ (Payal Nag) ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্ব তীরন্দাজি প্যারা সিরিজ (World Archery Para Series)-এ জোড়া সোনা জিতে লিখলেন এক অনন্য ইতিহাস।

ওড়িশার বালাঙ্গির-এর ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে আসা পায়েলের জীবন এক মুহূর্তে বদলে যায় ২০১৫ সালে। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী অবস্থায় খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। চিকিৎসকদের শেষ সিদ্ধান্ত- প্রাণ বাঁচাতে চারটি অঙ্গই বাদ দিতে হবে। সেই মুহূর্তে যেন থেমে যায় সব স্বপ্ন।

পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল ভীষণ দুর্বল। বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাতেন। চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব না হওয়ায় পায়েলকে রাখা হয় পার্বতী গিরি বাল নিকেতনে (Parbati Giri Bal Niketan)। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন লড়াইয়ের গল্প।

২০২৩ সালে কোচ কুলদীপ বেদওয়ান (Kuldeep Vedwan) সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ছবি দেখে খুঁজে বের করেন। প্রথম দিনেই পায়েলের মনে প্রশ্ন, “আমি কীভাবে তিরন্দাজি করব?” কিন্তু কোচের আত্মবিশ্বাসী উত্তর ‘তুমি পারবে’—সেই বিশ্বাসই বদলে দেয় সবকিছু।

বিশেষভাবে তৈরি যন্ত্রের সাহায্যে শুরু হয় অনুশীলন। প্রতিদিন প্রায় ৮ ঘণ্টার কঠোর পরিশ্রমে ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তোলেন পায়েল। ২০২৫ সালে এশীয় যুব প্যারা গেমসে (Asian Youth Para Games) আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে তাঁর। সেখানেই তিনি হয়ে ওঠেন বিশ্বের প্রথম চার অঙ্গহীন তিরন্দাজ, যিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

এরপর ব্যাংককের মঞ্চে স্বপ্নপূরণ। ফাইনালে তিনি হারিয়ে দেন বিশ্বের এক নম্বর শীতল দেবীকে (Sheetal Devi) ১৩৯-১৩৬ ব্যবধানে। পাশাপাশি দলগত বিভাগেও জেতেন সোনা। এই প্রতিযোগিতায় ভারত মোট ১৬টি পদক জিতে শীর্ষে উঠে আসে।

এই অসাধারণ সাফল্যে মুগ্ধ শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা (Anand Mahindra) লিখেছেন, “সাহস আর মানসিক শক্তির আসল সংজ্ঞা জানতে হলে পায়েলকে দেখুন।” শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কও (Naveen Patnaik)।

এই যাত্রাপথে সবসময় পাশে ছিলেন তাঁর দিদি বর্ষা। তাঁর কথায়, “মানুষের তাচ্ছিল্যই ওকে আরও জেদি করেছে, আরও শক্ত করেছে।”

একসময় যাকে বোঝা মনে করা হয়েছিল, আজ সেই মেয়েই লক্ষ লক্ষ মানুষের অনুপ্রেরণা। পায়েল নাগ প্রমাণ করে দিয়েছেন—শরীরের সীমাবদ্ধতা নয়, মনের জোরই মানুষের আসল শক্তি।