Monday, May 25, 2026
দেশ

ভিক্ষা করে জীবনভরে সঞ্চিত সমস্ত অর্থ জগন্নাথ মন্দিরে দান করলেন বৃদ্ধা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: জগন্নাথ মন্দিরের বাইরে বসে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ভিক্ষা করে জীবনভরে সঞ্চিত ১ লাখ টাকা দান করলেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা। ওড়িশার ফুলবনি শহরে জগন্নাথ মন্দিরের পরিচালনা কমিটির হাতে সেই টাকা তুলে দিয়েছেন তিনি। মন্দির কর্তৃপক্ষ তাঁকে সম্মান জানিয়েছে। সেই ভিডিও টুইটারে ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এই বৃদ্ধার নাম তুলা বেহেরা। বাড়ি ওড়িশার ফুলবনিতে। বিশেষভাবে সক্ষম স্বামী প্রফুল্ল বেহেরাকে বিয়ে করেন তিনি। যিনি কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ভিক্ষা করতে থাকেন। কারণ তাঁর খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ ছিল না।

সেই তিনিই কয়েক বছর ধরে ১ লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। যেটা তিনি জগন্নাথ মন্দিরের জন্য দান করেছেন। তিনি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুনাসির মহাপাত্র এবং অন্যান্য সদস্যদের কাছে টাকা তুলে দেন। তার এই কাজের জন্য মন্দির প্রশাসন কমিটি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

তুলা বেহেরা ভগবান জগন্নাথের একনিষ্ঠ অনুগামী। বহুদিন ধরে মন্দিরে দান করার কথা ভাবছিলেন। ভিক্ষা করে উপার্জিত অর্থের কিছুটা তিনি পোস্ট অফিসে সঞ্চয় করেন। সম্প্রতি জগন্নাথ মন্দিরের সংস্কারের জন্য সঞ্চিত অর্থ দান করে দিলেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আমার অস্তিত্ব এবং বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বজগতের প্রভু জগন্নাথের কাছে ঋণী। আমি আমার জীবনের অন্তিম পর্বের দিকে আছি। আমি টাকা দিয়ে কি করব, তাই আমি সর্বশক্তিমানকে দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভিক্ষা করে বছরের পর বছর ধরে টাকা জমাচ্ছিলাম। আমার কোনো বাবা-মা বা কোনও সন্তান নেই। এমনকি আমি আমার জীবনের শেষ পর্যায়ে। আমার কোন টাকা লাগবে না। প্রকৃতপক্ষে, আমি যদি ভগবান জগন্নাথের জন্য কোনও সেবা করতে পারি, আমি অনুভব করব যে এই পৃথিবীতে আমার জীবনের উদ্দেশ্য পূরণ হয়েছে।’

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুনাসির মোহান্তি জানিয়েছেন, “এই অর্থ মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। মন্দিরে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আমরা তুলাকে আজীবন প্রসাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তথ্যসূত্র: OpIndia

Somoresh Sarkar

গুরুদাস কলেজ থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক এরপর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত।