ইউক্রেনের ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্রের গতি কমিয়ে দিচ্ছে মার্কিন সরকার, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিতে চাপে জেলেনস্কি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তির কথা ঘোষণা করার এবং ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতির কথা জানানোর কয়েক দিন পরেই নতুন সমস্যায় পড়ল ইউক্রেন। ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক (Starlink) স্যাটেলাইট ইন্টারনেট টার্মিনাল ব্যবহারে আকস্মিক বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যও সামনে এসেছে।
এই বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে সামরিক কাজে ব্যবহৃত স্যাটেলাইট টার্মিনালগুলির উপর। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এই টার্মিনাল ব্যবহার করে হামলায় অংশ নেওয়া ড্রোন পরিচালনা করে এবং রাশিয়ার ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সাহায্য করে।
পরিস্থিতির জেরে কঠিন অবস্থার মুখে পড়েছে ইউক্রেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেশটির একসময়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এখন ক্রমশ চাপে পড়ছে। অন্যদিকে, ইলন মাস্ক ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সাহায্য করার জন্য মাস্ক প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে জুলাই মাসের পর থেকে খরচ করেছেন ২৭৬ মিলিয়ন ডলার। এর আগে নিজের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারেও তিনি কয়েকশো মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন।
এক্সে একটি পোস্টে মাস্ক স্পষ্ট করেছেন, স্টারশিল্ড (Starshield) নামে স্পেসএক্সের সামরিক স্যাটেলাইট পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন সরকার ও সামরিক কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের কর্তৃত্বের অধীনেই থাকে। স্টারশিল্ডকে স্টারলিঙ্কের থেকে আলাদা করে দেখিয়ে তিনি জানান, স্টারলিঙ্ক মূলত বাণিজ্যিক পরিষেবা, যা সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহার এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য তৈরি; আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযানের জন্য নয়।
ইউক্রেনের স্টারলিঙ্ক পরিষেবায় কী ঘটেছে?
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সের্হি ‘ফ্ল্যাশ’ বেস্ক্রেস্তনভ জানিয়েছেন, কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের একাধিক সামরিক অভিযান ব্যাহত হয়েছে।
তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপের সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ তিনি দেননি।
সামাজিক মাধ্যমে বেস্ক্রেস্তনভ বলেন, “স্পষ্টতই, এই পদক্ষেপ কোনও কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে না এবং এর সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সম্পর্ক রয়েছে।”
স্টারলিঙ্ক হল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠিত সংস্থা স্পেসএক্স পরিচালিত একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক। যেখানে প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে না, সেখানে এই নেটওয়ার্ক ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে দেশটির সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে স্টারলিঙ্ক। এর সাহায্যে ইউক্রেনের সেনারা সামরিক অভিযান সমন্বয় করেন, তথ্য আদানপ্রদান করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা ড্রোনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
সাম্প্রতিক বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে বলে জানা গিয়েছে দ্রুতগতিতে চলার সময় ব্যবহৃত স্টারলিঙ্ক টার্মিনালগুলির উপর। বেস্ক্রেস্তনভের দাবি, স্পেসএক্স স্টারশিল্ড সামরিক পরিষেবা প্যাকেজের আওতায় থাকা টার্মিনালগুলির গতিসীমা ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার নির্ধারণ করেছে।
‘দ্য কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর উদ্ধৃত ইউক্রেনের সামরিক সূত্রগুলির দাবি, এই সীমার তুলনায় অনেক কম গতিতেও ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক সূত্র জানিয়েছে, সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওই সূত্রের বক্তব্য, “এর ফলে ড্রোন অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং মাঝারি পাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোনের অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি, যুদ্ধের সামনের সারিতে রসদ সরবরাহ, নজরদারি এবং সংকেত আদানপ্রদানের ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
ইউক্রেনের সপ্তম এয়ার অ্যাসল্ট কর্পসও স্টারলিঙ্ক সংযোগে সমস্যার কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, হুলিয়াইপোল অঞ্চলে অভিযান চালানো একটি ড্রোন ইউনিট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে একাধিক অভিযান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
এই বিধিনিষেধ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইউক্রেন আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের ড্রোনের উপর নির্ভরশীল। আক্রমণাত্মক ড্রোন রাশিয়ার সামরিক অবস্থানে হামলা চালাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে। অন্যদিকে, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই রাশিয়ার আগত ড্রোনগুলিকে ধ্বংস করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
ফলে হঠাৎ করে স্যাটেলাইট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শুধু একটি অভিযানই নয়, সামরিক যোগাযোগ, ড্রোন পরিচালনা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার ক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কেন এই সময়ে স্টারলিঙ্ক নিয়ে বিধিনিষেধ গুরুত্বপূর্ণ?
স্টারলিঙ্ক পরিষেবা নিয়ে এই সমস্যা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনায় আরও সরব হয়েছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করছেন তিনি।
ট্রাম্পের বক্তব্য, রাশিয়ার তেল পরিশোধনাগারগুলিতে ইউক্রেনের হামলা বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহের উপর চাপ সৃষ্টি করছে। তাই ইউক্রেনের উচিত রাশিয়ার তেল পরিশোধনাগারগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করা।
গত সপ্তাহে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প আরও ঘোষণা করেন, রাশিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করবে।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসে আসন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের।
ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। নভেম্বর মাসে এবং তার পরেও অতিরিক্ত চালান পাঠানো হবে। তবে রয়টার্সের উদ্ধৃত মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ঘোষিত এই পরিমাণ ডিজেল শুধু মার্কিন পরিবহণ ক্ষেত্রের এক দিনেরও কম সময়ের চাহিদা মেটাতে পারবে।
রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর আশঙ্কা, এই পদক্ষেপ মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর পরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেন ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, ইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়ার সময় এসেছে।”
মার্কিন সমর্থন হারানো যন্ত্রণাদায়ক, বললেন জেলেনস্কি
ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্পের ক্রমশ কঠোর হয়ে ওঠা মনোভাবে হতাশা প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মস্কোর পক্ষ নিতে দেখা যন্ত্রণাদায়ক।
বুধবার ‘পিয়ার্স মরগ্যান আনসেন্সরড’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ট্রাম্প যদি দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেন, তা তিনি মেনে নিতে পারেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের কোনও একটি পক্ষকে সমর্থন করা উচিত নয়।
জেলেনস্কি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন একটি পক্ষকে বেছে নেন, আর সেই পক্ষটি আমাদের নয়, তখন তা যন্ত্রণাদায়ক।”
তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি মাঝখানে থাকেন, তাহলে আপনাকে মাঝখানেই থাকতে হবে।”
ট্রাম্পের আচরণে নিজেকে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার বলে মনে হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, “সত্যিই, হ্যাঁ… তবে বিষয়টি শুধু আমার আবেগ বা অনুভূতির চেয়ে কিছুটা বেশি জটিল।”
তিনি আরও বলেন, “এটা দুঃখজনক যে আমরা একজন শক্তিশালী সহযোগীকে হারাচ্ছি।”
আলোচনার ক্ষেত্রে ইউক্রেনকে কোনও দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলেনস্কি।
তাঁর কথায়, “আমরা আমাদের দেশ বিক্রি করছি না। আমাদের কাছে এটা কোনও ব্যবসা নয়। এটা আমাদের জীবন, আর এটাই আমাদের দেশ।”
এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, রাশিয়ার তেল পরিশোধনাগারগুলিতে হামলা বন্ধ করতে কিয়েভের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিল।
ইউক্রেনের ড্রোন যুদ্ধে কীভাবে সাহায্য করেছে স্টারলিঙ্ক?
স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা ড্রোনগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে ড্রোন পরিচালনাকারীরা দূর থেকে ড্রোনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, নির্দেশ পাঠাতে পারেন এবং অভিযান চলাকালীন তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
রাশিয়ার সামরিক অবস্থানের উপর নজরদারি চালানো, সরবরাহের পথ ব্যাহত করা এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেন ড্রোনের উপর নির্ভর করে। এই ধরনের অভিযানে প্রায়শই স্যাটেলাইট সংযোগের প্রয়োজন হয়, যাতে উড়ন্ত অবস্থায় ড্রোন নির্দেশ গ্রহণ করতে এবং সংগৃহীত তথ্য পাঠাতে পারে।
রাশিয়ার সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করতেও এই প্রযুক্তি ইউক্রেনকে সাহায্য করেছে। এর ফলে যুদ্ধের সামনের সারিতে থাকা রুশ সেনাদের কাছে সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তাই ড্রোনের জন্য ব্যবহৃত স্যাটেলাইট সংযোগে কোনও বিঘ্ন ঘটলে রাশিয়ার অবস্থানে হামলা চালানোর পাশাপাশি সামরিক রসদ সরবরাহের উপরও প্রভাব পড়তে পারে।
রাশিয়ার ড্রোন হামলা প্রতিহত করার ক্ষেত্রেও স্টারলিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাশিয়া ক্রমশ উন্নত প্রযুক্তির আকাশযান, এমনকি জেট ইঞ্জিনচালিত আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করায় নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা হারালে এই হুমকি শনাক্ত করা এবং তা মোকাবিলা করা ইউক্রেনের পক্ষে আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে রুশ সেনাদের ব্যবহৃত অননুমোদিত স্টারলিঙ্ক টার্মিনাল নিষ্ক্রিয় করার জন্য স্পেসএক্সের সঙ্গে কাজ করেছিল ইউক্রেন। ফলে সাম্প্রতিক এই ঘটনায় যুদ্ধক্ষেত্রে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই সামরিক সুবিধা পাওয়ার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।
ইউক্রেনের স্টারলিঙ্ক সাবস্ক্রিপশনের খরচ বহন করে পোল্যান্ডও। সাম্প্রতিক বিধিনিষেধের খবর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি।
এক্সে মাস্ককে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, “এই যে, @elonmusk, আপনি কি আবার আপনার পণ্য নিয়ে রাজনীতি করছেন?”
তিনি আরও বলেন, “আপনার ইউরোপীয় গ্রাহক হিসেবে আমরা আপনার উপর নজর রাখছি।”
মাস্ক অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে আসছে স্টারলিঙ্ক। ফলে সাম্প্রতিক বিধিনিষেধের খবর কিয়েভের মধ্যে এই আশঙ্কা বাড়িয়েছে যে, একটি মার্কিন সংস্থার প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীলতা দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির সঙ্গে সঙ্গে ইউক্রেনকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে।
ট্রাম্প কি স্টারলিঙ্ক পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন?
এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রমাণ নেই যে ট্রাম্প বা তাঁর প্রশাসন ইউক্রেনে স্টারলিঙ্ক পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ করার জন্য স্পেসএক্সকে নির্দেশ দিয়েছে।
তবে এই পদক্ষেপের সময় ইউক্রেনের পক্ষে উপেক্ষা করা কঠিন। একদিকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জেলেনস্কির সমালোচনা করছেন, অন্যদিকে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছেন এবং যুদ্ধের কৌশল পরিবর্তনের জন্য ইউক্রেনের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
এই পরিস্থিতিতে স্টারলিঙ্ক নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাটি কিয়েভের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের আশঙ্কা, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সহায়তা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, শান্তি আলোচনায় এখনও কোনও স্পষ্ট অগ্রগতি নেই এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ারও কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে
মার্কিন সমর্থন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে অনিশ্চয়তা ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইন্ডিয়া টুডে

