Monday, October 12, 2026
Latestদেশ

শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করলে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না, বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক, পুলিশের অতিসক্রিয়তা এবং বলপ্রয়োগের অভিযোগে এবার কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে ব্যারিকেড পর্যালোচনা, মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং ইন্টারনেট পরিষেবা চালু রাখার বিষয়ে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

রবিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়া ব্যক্তিদের যেন বেআইনিভাবে আটক করা না হয়। কোনও ব্যক্তিকে আটক করতে হলে আইন নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা এলাকার বাইরের ক্ষেত্রে এই নির্দেশের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আদালত।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি না থাকলে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রাখতে হবে। আইন মেনে ইন্টারনেট পরিষেবাও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি, আইনসম্মত বিধিনিষেধ এবং যান চলাচলের প্রয়োজনীয়তা মেনে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বিক্ষোভের সময় পরিবহণ পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, দিল্লির পুলিশ কমিশনার এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (DMRC) নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত।

এছাড়া, সুপ্রিম কোর্ট চত্বর এবং তার আশপাশে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারির কথা উল্লেখ করে যে নোটিসগুলি লাগানো হয়েছিল, সেগুলি এখনও সরানো না হয়ে থাকলে অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আইনজীবীদের তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া যাবে না।

শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সাধারণ নাগরিকদের আটক করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই রবিবার বিশেষ শুনানি হয়। বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা, আইনজীবী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও আদালতে তোলা হয়।

শুনানিতে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে মানুষ দিল্লিতে প্রবেশ করতে এবং নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে পৌঁছতে বাধার মুখে পড়েছেন। মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও তিনি আদালতের নজরে আনেন। তাঁর বক্তব্য, আইনসম্মত বিধিনিষেধের অধীনে নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার নিশ্চিত করা উচিত।

এরপর বিচারপতিদের বেঞ্চ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং যান চলাচলের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে ব্যারিকেডগুলি পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেয়। কোন কোন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং কোনগুলি চালু ছিল, তার বিস্তারিত মানচিত্রও দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনের কাছে চেয়েছে আদালত।

অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান, শনিবার রাত ১০টার মধ্যে সমস্ত মেট্রো স্টেশন পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং ইন্টারনেট পরিষেবাও পুনরুদ্ধার করা হয়েছিল। আদালত জানিয়েছে, জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিধিনিষেধ অপরিহার্য না হলে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে হবে।

আদালতে পেশ করা বিভিন্ন আবেদনে পুলিশের বিধিনিষেধের বৈধতা এবং তার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একটি আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দিল্লিতে প্রবেশের জন্য মেট্রো ও রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ না রাখার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। অন্য আবেদনকারীরা রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবীদের প্রতিরোধমূলক আটক এবং আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর বলপ্রয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

বেঞ্চ জানিয়েছে, বেআইনি আটক, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগের জবাব সরকারকে দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট চত্বরের বাইরে ১৬৩ ধারা জারি করার যৌক্তিকতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথভাবে সেই বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আগামী মঙ্গলবার মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি হবে। সেদিন সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।