Monday, June 24, 2024
দেশ

জওয়ানের শিশুকন্যার প্রাণ বাঁচাতে রোজ়া ভেঙে রক্ত দিলেন মুসলিম যুবক

দ্বারভাঙা, ২৮ মে: এসএসবি জওয়ান রমেশ সিংয়ের দুই দিনের কন্যাসন্তানের জীবন বাঁচাতে রোজ়া ভেঙে রক্ত দিলেন বিহারের মুসলিম যুবক মহম্মদ আসফাক। সময় মতো রক্ত পেয়ে কন্যাসন্তানের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। আশফাকের এই কীর্তি আবারও প্রমাণ করে দিল, ধর্ম যতোই বড় হোক না কেন, তার চেয়েও বড় মনুষত্ব।

সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) জওয়ান রমেশ সিং এখন দেশরক্ষার কাজে অরুণাচল প্রদেশে। সন্তানসম্ভবা ছিলেন তাঁর স্ত্রী আরতি কুমারী। দু’দিন আগে আগে দ্বারভাঙার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। ডেলিভারির পর বাচ্চাটির শারীরিক পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে ICU-তে ভরতি করতে হয়। রক্তের প্রয়োজন ছিল শিশুটির। নার্সিংহোমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসার জন্য O নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত লাগবে। না হলে বাঁচানো সম্ভব নয়। O নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত পাওয়া বেশ কঠিন।

শিশুটির প্রাণ বাঁচাতে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন পরিবার-পরিজনরা। সেই পোস্টের মাধ্যমেই বিষয়টি জানতে পারেন আশফাক। তাঁরও ব্লাডগ্রুপ ‘O নেগেটিভ’। তবে চিকিৎসকরা আশফাকের রক্ত নিতে অস্বীকার করেন। চিকিৎসকরা জানান, উপোস করে থাকায় তার রক্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাই শিশুকে বাঁচানোর জন্য রোজ়া ভেঙে খেয়ে নেন আসফাক। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর শিশুটিকে রক্ত দেন। তার রক্ত পেয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় শিশুটির।

শুধু আসফাক নয়। জওয়ান রমেশ সিংয়ের কন্যাসন্তানকে বাঁচাতে মধুবনীর নেপাল সীমান্ত থেকে এক এসএসবি জওয়ান রক্ত দিতে এসেছিলেন। কিন্তু ততক্ষণে চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন শিশুটির পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। আসফাককে রোজা ভেঙে রক্ত দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “জওয়ানের সন্তান। এটা শুনেই মনে মনে ঠিক করি, আমার রক্ত দেওয়া উচিৎ। রোজ়া আবার করা যাবে। কিন্তু, প্রাণ তো বারবার ফিরে আসে না।”