Thursday, September 24, 2026
Latestদেশ

আগামী ১০ বছরে ভারতের অর্থনীতি তিনগুণ হতে পারে: জেপি মরগ্যানের জেমি ডিমন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগ্যান চেজ (JPMorgan Chase)-এর সিইও জেমি ডিমন বলেছেন, আগামী এক দশকে ভারতের অর্থনীতি আকারে প্রায় তিনগুণ হতে পারে। একইসঙ্গে ভারতে নিজেদের ব্যবসায়িক পরিসর আরও বড় করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ডিমন বলেন, আগামী এক দশকে ভারতে জেপি মরগ্যানের গবেষণা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংস্থাটি প্রায় ৪০০টি কোম্পানিকে গবেষণার আওতায় এবং মোট ২,০০০টি কোম্পানিকে কভারেজের মধ্যে আনার পরিকল্পনা করছে।

CNBC-TV18-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৫ সালে প্রথম ভারত সফরের পর থেকে দেশে জেপি মরগ্যানের কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ডিমন বলেন, ভারত সরকার এবং ভারতীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় সংস্থাটি।

তিনি জানান, ২০২৫ সালে জেপি মরগ্যানে ভারতে প্রায় ৬,০০০ কর্মী ছিল। বর্তমানে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ক্ষেত্র, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং-সহ একাধিক বিভাগে সংস্থাটিতে ৬০,০০০ পেশাদার কাজ করছেন।

বর্তমানে জেপি মরগ্যানের গবেষণা বিভাগ ভারতে প্রায় ২০০টি কোম্পানিকে কভার করে। পাশাপাশি বহুজাতিক সংস্থা এবং বিদেশে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চাওয়া ভারতীয় কোম্পানিগুলির সঙ্গেও কাজ করে মার্কিন এই বিনিয়োগ ব্যাংক।

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার পক্ষেও সওয়াল করেছেন ডিমন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নিয়মে ধারাবাহিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারের উচিত আলোচনায় বসে চুক্তিটি সম্পূর্ণ করা।

বিশ্ব অর্থনীতি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন ডিমন। তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যবৃদ্ধি (Inflation), সরকারের উচ্চ ঋণগ্রহণ, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পুঁজির বাড়তে থাকা চাহিদা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি।

তিনি মনে করেন, সুদের হার এবং বন্ডের ফলন (Bond Yields) দীর্ঘ সময় ধরে তুলনামূলকভাবে উচ্চ থাকতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সংক্রান্ত পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে পুঁজির চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডিমনের মতে, AI-তে বিনিয়োগের ঢেউ ভবিষ্যতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং মূল্যহ্রাসজনিত চাপ (Deflationary Pressure) তৈরি করতে পারে। তাঁর দাবি, আগামী বছর হাইপারস্কেলার (Hyperscaler) ইকোসিস্টেমে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে, যা চলতি বছরের প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি।