Tuesday, May 12, 2026
কলকাতা

ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি পোলিং স্টেশনেই পুনর্নির্বাচন, ২১ মে ভোটগ্রহণ হবে, ২৪ মে ভোট গণনা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ ঘিরে গুরুতর অনিয়ম ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভঙ্গের অভিযোগে বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার কমিশন ঘোষণা করেছে, ওই কেন্দ্রে হওয়া আগের ভোটগ্রহণ সম্পূর্ণ বাতিল করে সব কটি বুথে পুনর্নির্বাচন (রিপোল) করা হবে।

ইসির নির্দেশ অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ২৮৫টি বুথ—সহায়ক বুথ-সহ—সবকটিতেই নতুন করে ভোট নেওয়া হবে। আগামী ২১ মে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে এবং ভোটগণনা হবে ২৪ মে।

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২৯ এপ্রিলের ভোটে বহু বুথে ‘গুরুতর নির্বাচনী অপরাধ’ এবং ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবমাননা’র ঘটনা সামনে এসেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার হাসিমনগর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের ঘনিষ্ঠ পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল ভোট-পরবর্তী হিংসার হুমকি দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে শতাধিক গ্রামবাসী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। মহিলাদের একাংশ বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তা অবরোধও করেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) জওয়ানরা এলাকায় পৌঁছে বাসিন্দাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।

এদিকে, শনিবার ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা এলাকায় ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার ও পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই ওই বুথগুলিতে আগের ভোট বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে ইসির কাছে অন্তত ৭৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগগুলির মধ্যে ইভিএমে কারচুপির বিষয়ও উঠে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দলের বোতামে আঠা লাগানো বা কালি দিয়ে চিহ্নিত করার অভিযোগ রয়েছে, যাতে ভোটাররা ভোট দিতে না পারেন। আবার কোথাও বোতামে আতর জাতীয় পদার্থ লাগিয়ে ভোটারের পছন্দ চিহ্নিত করার চেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ফলতা কেন্দ্রে সর্বাত্মক পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ভোটের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।