Thursday, October 1, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

মাঝ আকাশে বিমান হাইজ্যাক রুখলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার, নিজে গুরুতর আহত হয়ে বাঁচালেন ১৮০ যাত্রীকে

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মাঝ আকাশে সহ-পাইলটের হামলা থেকে বিমানকে রক্ষা করে ১৮০-রও বেশি যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন ফ্লাইদুবাইয়ের এক ভারতীয় ক্যাপ্টেন। ইজরায়েলি কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে সম্ভাব্য ‘দ্বিতীয় ৯/১১’-ধরনের হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। ওই ভারতীয় পাইলটের নাম স্মিত মচ্ছার।

ঘটনাটি ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানে ঘটে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওমানের নাগরিক ওই সহ-পাইলট ছুরি নিয়ে মূল পাইলটের ওপর হামলা চালান। হামলায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন আহত হলেও তিনি পাল্টা প্রতিরোধ করেন এবং বিমানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া থেকে রক্ষা করেন।

ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সহ-পাইলটই মূল পাইলটকে ছুরি দিয়ে হামলার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, মূল পাইলট ভারতীয়।

চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, পাইলট ভারতীয় বংশোদ্ভূত। অন্যদিকে ওয়াইনেট নিউজ তাঁকে ভারতীয় নাগরিক বলে উল্লেখ করেছে।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ও সূত্রে ওই পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বলে দাবি করা হয়। তিনি গুজরাটের বাসিন্দা এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানা যায়। এর আগে তিনি স্পাইসজেটে কাজ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

চ্যানেল ১২-এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম N12-কে এক ইজরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, “এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি মেরে বিমানটিকে মাটির দিকে নিয়ে যাওয়ার বা বিমান ছিনতাই করার চেষ্টা করেছিলেন।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বড় ধরনের হামলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বিমানটির এক যাত্রীর পরিবারের সদস্য ইয়াসমিন আবুকাসিস AFP-কে জানান, তাঁর মেয়ে মিরিয়াম শিরা ওহায়ন সৌদি আরব থেকে ফোন করে ঘটনার কথা জানান। তাঁর মেয়ে জানিয়েছিলেন, এক পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরি দিয়ে হামলা করেছিলেন এবং তাঁরা চিৎকারের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন।

ওই যাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরে এক যাত্রী ককপিটে গিয়ে প্রচুর রক্ত দেখতে পান এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বিমানের সামনের দিকে বসে থাকা কয়েকজন ইজরায়েলি যাত্রী ককপিটের দিকে ছুটে যান। বিমানটি নিচের দিকে নামতে শুরু করলে তাঁরা হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে দেন। পরে দুই পাইলটকে ককপিটের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাঁদের মধ্যে একজন ফের বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

ঘটনায় আহত পাইলটের অবস্থা গুরুতর ছিল বলে এক যাত্রী দ্য জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছেন। বিমানে থাকা এক ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসক আহত পাইলটকে চিকিৎসা দেন এবং তাঁর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর দুই পাইলটকেই সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে বলে ওয়াইনেট নিউজ জানিয়েছে।

এদিকে, ওমানের ওই সহ-পাইলট কীভাবে ইজরায়েলে যাওয়ার অনুমতি পেলেন, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ইজরায়েলি সূত্রের দাবি, বিদেশি ক্রু সদস্যদের, বিশেষ করে আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলির নাগরিকদের ইজরায়েলে প্রবেশের আগে পৃথকভাবে নিরাপত্তা যাচাই ও স্ক্রিনিং করা হয়। ওই সহ-পাইলটের দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চ্যানেল ১২-এর সূত্র অনুযায়ী, তিনি এক বছরেরও কম সময় ধরে ওই এয়ারলাইনে কাজ করছিলেন।