Wednesday, November 4, 2026
Latestরাজ্য​

স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ, ভুয়ো বিল, ২৫ থেকে ৩০ লাখ উপভোক্তা অস্তিত্বহীন!

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিপুল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলল বিজেপি সরকার। প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ উপভোক্তার পরিচয় ও অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই আর্থিক ফরেন্সিক অডিট শুরু করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, আয়ুষ্মান ভারত এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার আওতায় উপভোক্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতির সময় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের পুরনো তথ্য যাচাই শুরু হয়। সেই প্রক্রিয়ায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের পরিচয় ও ঠিকানা পরীক্ষা করতে গিয়ে বিপুল সংখ্যক কার্ডধারীর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। প্রাথমিক যাচাইয়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ উপভোক্তার তথ্য সন্দেহের তালিকায় এসেছে। 

অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অভিযোগ, কোথাও অস্তিত্বহীন রোগীর নামে চিকিৎসার বিল জমা পড়েছে, কোথাও আবার অস্তিত্বহীন হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের নামে সরকারি অর্থ তোলা হয়েছে। ভুয়ো চিকিৎসকের নাম, জাল স্বাক্ষর এবং চিকিৎসার বিবরণে অসঙ্গতি দেখিয়েও টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার বিল জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি স্বাস্থ্য দপ্তরের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়েই ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, ‘এটি দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়ামাত্র। তদন্ত এগোলে আরও বড় অনিয়ম সামনে আসতে পারে। ভুয়ো উপভোক্তা, রোগী, চিকিৎসক, হাসপাতাল এবং থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

কী ভাবে এই অনিয়মের অর্থ কোথায় পৌঁছেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতির টাকার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহলের যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। এমনকি সেই অর্থের গতিপথ কালীঘাট বা তৃণমূলের কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছেছে কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখার কথা বলেছেন তিনি। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি।

স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, বর্ধমানের আহাদ মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালের জমা দেওয়া বিল পরীক্ষা করতে গিয়েই প্রথম বড়সড় অসঙ্গতি নজরে আসে। অভিযোগ, ১৪৪টি স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সঙ্গে চিকিৎসার বিলের তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হলেও সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি বলে দাবি দপ্তরের।

এর পরই বিভিন্ন জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের বিল খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং বর্ধমানের একাধিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত দুটি থার্ড পার্টি অ্যাডমিনিস্ট্রেটর বা টিপিএ-কে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একাধিক বিমা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।