ভাইফোঁটা পর্যন্ত দিল্লিতে মিছিল, সভা ও বিক্ষোভ বন্ধ রাখা হোক, দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উৎসবের মরশুমে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় আগামী ১১ নভেম্বর, ভাইফোঁটা পর্যন্ত দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে মিছিল, ধর্না ও বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ রাখার দাবি জানাল ব্যবসায়ী সংগঠন চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI)। এই মর্মে মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছে সংগঠনটি।
চিঠিতে ব্যবসায়ী সংগঠনটি জানিয়েছে, গত এক মাস ধরে ঘনঘন বিক্ষোভ, মিছিল এবং যানজটের কারণে দিল্লির ব্যবসায়ীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই কনট প্লেস, যন্তর মন্তর, রামলীলা ময়দান, ইন্ডিয়া গেট, রাজঘাট, দিল্লি গেট, মধ্য দিল্লি এবং পুরনো দিল্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত কোনও বিক্ষোভ বা মিছিলের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
CTI-র চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের দাবি, ১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে দিল্লির ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, প্যাটেল চক এবং জনপথে লাগাতার বিক্ষোভ ও মিছিলের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে কনট প্লেস, জনপথ, পালিকা বাজার, খান মার্কেট, করোলবাগ, পাহাড়গঞ্জ ও কমলা মার্কেটের খুচরো ব্যবসা, হোটেল, রেস্তরাঁ এবং পরিবহণ ক্ষেত্রে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে আয়োজিত বিশাল জনসভার কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি CTI-র। এর মধ্যে খুচরো ও পাইকারি ব্যবসায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮,৮০০ কোটি টাকা।
সংগঠনটির দাবি, রামলীলা ময়দানের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় তিন লক্ষ দোকান রয়েছে। কাশ্মীরি গেট, চাঁদনি চক, সদর বাজার, দারিয়াগঞ্জ, জামা মসজিদ, কনট প্লেস, করোলবাগ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা এই পরিধির মধ্যে পড়ে। জনসভার দিন প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ বাণিজ্যিক কার্যকলাপ স্তব্ধ হয়ে যায়।
CTI-র আরও দাবি, ধনতেরস (৬ নভেম্বর) এবং দীপাবলির (৮ নভেম্বর) আগে বছরের অন্যতম ব্যস্ত কেনাকাটার সময়ে এই জনসভা হওয়ায় প্রায় ১০০টি পার্শ্ববর্তী শহর ও এলাকা থেকে আসা ৩ থেকে ৪ লক্ষ ক্রেতার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বহু ক্রেতা দিল্লিতে কেনাকাটার পরিকল্পনা বাতিল করেন।
পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহ ক্ষেত্রেও প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। রামলীলা ময়দানের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যান চলাচল ও পণ্য পরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
CTI-র হিসাব অনুযায়ী, নরেলা, বাওয়ানা, ওখলা, ময়াপুরি, মুন্ডকা-সহ ৫৬টি শিল্পাঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ট্রাক ও ছোট পণ্যবাহী গাড়ি দিল্লির বাজারগুলিতে আসে। এছাড়া দিল্লি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এবং NCR এলাকায় আরও প্রায় ৩ হাজার ট্রাক পণ্য নিয়ে যায়। জনসভার দিন গোটা সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। JLN মার্গ, বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ এবং নেতাজি সুভাষ মার্গে বহু বাস, গাড়ি ও পণ্যবাহী যান আটকে পড়ে।
হোটেল, রেস্তরাঁ, পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। কনট প্লেস, করোলবাগ, পাহাড়গঞ্জ, চাঁদনি চক এবং দারিয়াগঞ্জের ২ হাজারেরও বেশি হোটেল, রেস্তরাঁ ও গেস্ট হাউসের বুকিং বাতিল হয়। লালকেল্লা, জামা মসজিদ এবং চাঁদনি চকের মতো পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতেও সমস্যায় পড়েন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা।
অন্যদিকে, অসংগঠিত ক্ষেত্র এবং দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করা শ্রমিকদের প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি CTI-র। সংগঠনটির বক্তব্য, প্রায় ২০ লক্ষ কর্মচারী, পণ্য ওঠানো-নামানোর শ্রমিক, অটোচালক, হকার এবং কুলি ওই দিন রোজগার হারিয়েছেন।
ব্রিজেশ গোয়েল বলেন, আগামী ১০ দিন দিল্লির প্রায় ২০ লক্ষ ব্যবসায়ী এবং ৭৫ লক্ষ কর্মচারীর কাছে বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সময়। এই সময়ে প্রতিদিন মিছিল ও বিক্ষোভ চলতে থাকলে দীপাবলির ব্যবসা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীরা আর অতিরিক্ত ক্ষতি বহন করতে পারবেন না।
দিল্লি পুলিশ কমিশনারের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছে CTI
1. আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত কনট প্লেস, যন্তর মন্তর, রামলীলা ময়দান এবং ইন্ডিয়া গেটে কোনও মিছিল, বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া যাবে না।
2. বিক্ষোভ ও মিছিলের জন্য বুরারি, আলিপুর, জাসোলা এবং যমুনা খাদরের মতো বিকল্প স্থান নির্দিষ্ট করতে হবে।
3. উৎসবের মরশুমে মধ্য দিল্লিতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
শেষে ব্রিজেশ গোয়েল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ সময়েও যদি বিক্ষোভ ও মিছিলের কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হতে থাকে, তাহলে বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা নিজেদের দোকানের চাবি বিক্ষোভের আয়োজকদের হাতে তুলে দেবেন।’

