Wednesday, November 4, 2026
Latestআন্তর্জাতিক

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের জেরে পাকিস্তানের ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি, দাবি ব্যবসায়ী সংগঠনের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ২০১৯ সালে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার জেরে পাকিস্তানের আনুমানিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। এমনই দাবি করেছেন পাক-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নূর মহম্মদ কাসুরি।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন কাসুরি। তার মতে, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি বিনিয়োগ, পর্যটন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এক বিবৃতিতে কাসুরি জানান, ‘ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার ফলে পাকিস্তানের ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য দূরবর্তী দেশগুলি থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। এর ফলে পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি পণ্য পৌঁছতেও বেশি সময় লাগছে।’

তিনি জানান, ‘পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পের জন্য ভারতের কাঁচামাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত থেকে এই কাঁচামাল আমদানি করতে পারলে পাকিস্তানের ওষুধ শিল্পের বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।’

বাণিজ্য বন্ধের প্রভাব পড়েছে পাকিস্তানের বস্ত্রশিল্পেও। দেশের অভ্যন্তরে তুলো উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্রাজিল, মিশর, চিন এবং আমেরিকা থেকে তুলো আমদানি করতে হচ্ছে। এর ফলে পাকিস্তানের অতিরিক্ত প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে বলে দাবি করেছেন কাসুরি।

এছাড়াও চিনি, সার, সিমেন্ট, পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য, লোহা, ইস্পাত, শাকসবজি এবং ভারী যন্ত্রপাতির মতো পণ্যও পাকিস্তানকে দূরবর্তী দেশগুলি থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ এই সমস্ত পণ্য উৎপাদনে ভারতের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।

কাসুরির মতে, ‘ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে পরিবহণ খরচ কমবে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ আরও দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ভৌগোলিকভাবে ভারতের তেল শোধনাগারগুলি পাকিস্তানের কাছাকাছি হওয়ায় ভারত থেকে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি করলে খরচ ও সময় দুই-ই কমতে পারে।’

পাকিস্তানে তুলো চাষের জমি ক্রমশ কমে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার দাবি, ‘ঐতিহ্যগতভাবে তুলো উৎপাদনকারী অঞ্চলের কৃষকরা ক্রমশ আখ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে দেশের বস্ত্রশিল্প এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তুলো উৎপাদন বাড়াতে উন্নত কৃষিনীতি গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।’

এছাড়া ভারতীয় পর্যটকদের পাকিস্তানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে পর্যটন শিল্পও লাভবান হতে পারে বলে মনে করেন কাসুরি। বিশেষ করে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান এবং পূর্বপুরুষদের ভিটে বা গ্রাম দেখতে আগ্রহী ভারতীয় পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারতের আর্থিক সহায়তার উদাহরণও তুলে ধরেন কাসুরি। তার মতে, ‘প্রতিবেশী দেশগুলি কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলি খতিয়ে দেখা উচিত। দুই দেশের অমীমাংসিত সমস্যাগুলি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা যেতে পারে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার ভিত্তি হতে পারে।’

সব মিলিয়ে, ভারত-পাকিস্তান বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে পাকিস্তানের আমদানি খরচ কমার পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যে বিনিয়োগ, পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে বলে দাবি করেছেন পাক-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।

যদিও এ প্রসঙ্গে ভারতের আগাগোড়াই স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আগে সন্ত্রাস বন্ধ করুন। তারপরে বাণিজ্য নিয়ে কথা বলুন। সন্ত্রাসে মদদ আর বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না।’