বিধান পরিষদ নির্বাচনে বারাণসী ও নাগপুরে হারলো বিজেপি, ‘এটা মানুষের সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ’, দাবি কংগ্রেসের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে বিজেপিকে হারিয়ে নাগপুর ডিভিশন গ্র্যাজুয়েটস আসন ধরে রাখলেন কংগ্রেসের অভিজিৎ ওয়াঞ্জারি। বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক সুধাকর কোহলেকে ৩,২৭১ ভোটে পরাজিত করেছেন তিনি। ওয়াঞ্জারি পেয়েছেন ৬৭,২৩১টি ভোট, অন্যদিকে কোহলে পেয়েছেন ৬৩,৯৬০টি ভোট। এর আগে গত নির্বাচনেও বিজেপি প্রার্থী সন্দীপ যোশীকে হারিয়েছিলেন ওয়াঞ্জারি।
নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সদর দফতর অবস্থিত। পাশাপাশি, এই শহর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গডকড়ীর নিজের শহর। কোহলের সমর্থনে দু’জনেই ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন। দীর্ঘ ২৪ বছর, ১৯৯০ সালের জুলাই থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত, নাগপুর ডিভিশন গ্র্যাজুয়েটস আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন নীতিন গডকড়ী।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকের বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের ফলাফল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কটাক্ষের জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। নির্বাচনে কংগ্রেস কতগুলি আসন জিতেছে, তা নিয়ে মোদী প্রশ্ন তুলেছিলেন।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা জয়রাম রমেশ এক্সে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীর উচিত আত্মসমীক্ষা করা। কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি অন্যদের উপদেশ দিচ্ছেন। কংগ্রেসের আসন সংখ্যা গোনার আগে প্রধানমন্ত্রীকে ভাবতে হবে, কেন তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে বিজেপি দুটি আসনেই হেরেছে এবং কীভাবে আরএসএসের শক্ত ঘাঁটি নাগপুরে কংগ্রেস বিজেপিকে পরাজিত করেছে।
রমেশ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন কটাক্ষ করা বন্ধ করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশে মূল্যবৃদ্ধির চাপে কোটি কোটি পরিবার বিপর্যস্ত, যুবসমাজ বেকারত্বের সমস্যায় ভুগছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগ কার্যত থমকে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অহংকার ত্যাগ করে এই সমস্যাগুলি নিয়ে ভাবা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কংগ্রেস নেতার দাবি, বারাণসী ও নাগপুর থেকে লখনউ, প্রয়াগরাজ এবং পাটনা—বিভিন্ন এলাকার মানুষ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।
চার রাজ্যে বিধান পরিষদের মোট ২৮টি আসনে নির্বাচনে বিজেপি ও তার এনডিএ শরিকরা ১৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। কংগ্রেস জিতেছে একটি আসনে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি পাঁচটি আসনে জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে দুটি আসন রয়েছে বারাণসীতে।
বুধবার চার রাজ্যের প্রাথমিক ফলাফল সামনে আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ-সহ বিজেপির একাধিক নেতা ও মন্ত্রী কংগ্রেস এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছিলেন। প্রাথমিক ফলাফলে কর্ণাটক-সহ কয়েকটি রাজ্যে কংগ্রেস কোনও আসনেই জয় পায়নি বলে দাবি করা হয়েছিল।
নাগপুরের ফলাফল ঘোষণার পর মহারাষ্ট্র কংগ্রেস সমাজমাধ্যমে ফড়নবিশের মুছে ফেলা একটি পোস্টের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে। ওই পোস্টে বিধান পরিষদ নির্বাচনে কংগ্রেসের ফলাফলকে ‘বড়সড় শূন্য’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন ফড়নবিশ।
মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের বক্তব্য, সম্পূর্ণ ফলাফল প্রকাশের আগেই ফড়নবিশ বড় দাবি করে পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু নাগপুরে কংগ্রেসের জয়ের পর সেই মন্তব্য তাঁর দিকেই ফিরে এসেছে বলে কটাক্ষ করে দলটি। কংগ্রেস আরও দাবি করেছে, ফড়নবিশকে শেষ পর্যন্ত পোস্টটি মুছে ফেলতে হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৯ সালে মহারাষ্ট্রের মানুষ বিজেপিকে আরও বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দিতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছে দলটি।
মহারাষ্ট্রের পাঁচটি বিধান পরিষদ আসনের মধ্যে বিজেপি ও শিবসেনা একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) পুনে গ্র্যাজুয়েটস এবং ছত্রপতি সম্ভাজিনগর গ্র্যাজুয়েটস আসনে জয় পেয়েছে। ২০২৩ সালে অবিভক্ত এনসিপি ভেঙে যাওয়ার আগে এই দুটি আসনই দলটির দখলে ছিল।
অমরাবতী শিক্ষক আসনে শিবসেনার কিরণ সারনাইক জয়ী হয়েছেন। পুনে শিক্ষক আসনে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তুভ গাওয়াড়ে। অন্যদিকে, পুনে গ্র্যাজুয়েটস আসনে বিজেপি প্রার্থী স্মিতা যাদবকে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন এনসিপি (শরদ পাওয়ার)-এর প্রার্থী হর্ষদা দেশমুখ-যাদব।

