Thursday, October 29, 2026
Latestদেশ

ইউরোপে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ভারত: প্রতিরক্ষা সচিব

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ‘রিআর্ম ইউরোপ’ (Rearm Europe) উদ্যোগের জেরে ইউরোপে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত এখন ইউরোপে অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশগুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং শুক্রবার এই কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি সর্বকালের সর্বোচ্চ ৩৮,৪২৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ইউরোর সমান। গত এক বছরে ইউরোপে অস্ত্রের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় গোলাবারুদ, আর্টিলারি শেল এবং বিভিন্ন ধরনের ছোট ও বড় ক্যালিবারের গোলাবারুদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সচিবের মতে, গত ১০ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে ১৬টি বৃহৎ সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রায় ৮৪০টি বড় ও মাঝারি বেসরকারি সংস্থা এবং প্রায় ১৭ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও স্টার্টআপ এই ক্ষেত্রে কাজ করছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির পরিমাণও বেড়ে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে।

বর্তমানে ভারত বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করে। প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা মূলধনী ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ দেশের অভ্যন্তরে খরচ করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। ভারতীয় নকশায় তৈরি, উন্নয়ন করা এবং উৎপাদিত (IDDM) প্রতিরক্ষা সরঞ্জামকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দেশের স্বনির্ভরতা বজায় থাকে।

ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানির তালিকায় শুধু ভারী কামান ও গোলাবারুদই নয়, রয়েছে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

রাজেশ কুমার সিং জানান, আগে ভারত প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য প্রধানত রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই নির্ভরতা কমেছে এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ভারতের প্রতিরক্ষা আমদানিতে রাশিয়ার পর ফ্রান্সের অংশ প্রায় ১৫ শতাংশ। ইজরায়েলের অংশও প্রায় একই রকম।

তিনি আরও বলেন, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মতো ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার হচ্ছে। এই দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা ভবিষ্যতে ইউরোপের প্রতিরক্ষা বাজারে ভারতের প্রবেশের পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে।

প্রতিরক্ষা সচিবের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক চাহিদা পূরণে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভারতের বৈচিত্র্যময় প্রতিরক্ষা শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ভারত ভবিষ্যতে ইউরোপের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের কর্মসূচিতেও আরও বেশি অংশ নিতে চায়। সরাসরি অংশগ্রহণের পরিবর্তে ইউরোপে যৌথ উদ্যোগ বা জয়েন্ট ভেঞ্চার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে ইউরোপীয় সংস্থাগুলিও ভারতের প্রতিরক্ষা বাজারে প্রবেশের জন্য এ দেশে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলতে পারে। এর ফলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।