Monday, July 22, 2024
রাজ্য​

তৃণমূল-সিপিএম জোট? বিমান বসুর বক্তব্যে দোলাচলে লাল শিশির

কলকাতা: ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। একুশের বিধানসভা ভোটে রাজ্য থেকে ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেছে বাম শিবির। একটি আসনও জিততে পারেনি তারা। এই পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কেন্দ্রের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে জোট করছে সিপিএম- তৃণমূল? এটাও সম্ভব?
বঙ্গ রাজনীতির যা পূর্বাভাস তাতে করে লালে নীলে মিশে গেলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে ইতিমধ্যেই কাছাকাছি আসতে শুরু করছে কংগ্রেস– তৃণমূল। ইতিমধ্যেই বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধী। সোমবার মমতার দিল্লি সফরের আগেই তৃণমূলকে সমর্থন করে টুইট করা হয় কংগ্রেসের তরফে।

এদিকে, তৃণমূল-সিমিএম জোট নিয়ে ইন্ধন জোগান সূর্যকান্ত মিশ্র। সম্প্রতি সেই আগুনে ঘি ঢেলেছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Bose)। তিনি বলেন, বিজেপি বিরোধী যে কোনও দলের সাথেই কাজ করতে প্রস্তুত তাঁরা। তাঁর এই মন্তব্যে লাল শিবির চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কেউ কেউ এই জোটের বিপক্ষে আবার কেউ কেউ পক্ষে কথা বলেছেন।

তৃণমূল-সিপিএম জোট প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বলেন, তৃণমূলের সঙ্গে বামেরা কখনই এক হবে না। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল কবে লড়াই করল? বাংলায় ৩ থেকে বিজেপিকে ৭৭টি আসন পাইয়ে দিল তো তৃণমূলই। বিজেপির বিরুদ্ধে আমরাই একমাত্র ধারাবাহিকভাবে লড়াই করেছি, সেটাই চালিয়ে যাব।

দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, জরুরি অবস্থার সময়ও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এখন পরিস্থিতি আরও কঠিন। দেরিতে হলেও সিপিএম এটা বুঝতে পেরেছে। তবে শুধু জোটেই সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না,  দেশব্যপী গণআন্দোলন করতে হবে। কৃষক আন্দোলন, নাগরিকত্বের প্রশ্নে আন্দোলন, মোদী বিরোধিতার এককাট্টা ও জোরাল প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।

বাম শিবিরের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়ের সাফ কথা, বিমান বসু ফ্রন্ট চেয়ারম্যান হিসেবে এ কথা বলেননি। এটা সিপিএমের মত হতে পারে। ফ্রন্টের কথা হলে ফ্রন্টে আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত হত। এখনও নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। দু, একদিনের মধ্যেই মিটিং আছে। আলোচনার পরই মন্তব্য করব।