উত্তরাখণ্ডে মাদ্রাসার সিলেবাস থেকে চরমপন্থা সরিয়ে পড়ানো হবে হিন্দি, গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের স্বীকৃত মাদ্রাসা এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত এই পাঠ্যক্রমের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে তা রাজ্যের শিক্ষা দফতরের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
উত্তরাখণ্ড স্টেট অথরিটি ফর মাইনরিটি এডুকেশনের (USAME) সদস্য সুরজিৎ সিং গান্ধী জানিয়েছেন, শিক্ষা দফতরের অনুমোদন মিললে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য এ ধরনের পাঠ্যক্রম তৈরি ও কার্যকর করা দেশের মধ্যে উত্তরাখণ্ডই হবে প্রথম রাজ্য।
প্রস্তাবিত পাঠ্যক্রমে নিবন্ধিত মাদ্রাসাগুলিকে অবশ্যই রাজ্য-নির্ধারিত পাঠ্যক্রম অনুসারে সকালে হিন্দি, গণিত, বিজ্ঞান এবং ইংরেজি শেখাতে হবে। পাশাপাশি জাতীয়তাবাদ, ভারতের ইতিহাস ও সংস্কৃতির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিকেলে ধর্মীয় নির্দেশ ঐচ্ছিক এবং একটি পৃথক নির্ধারিত সিলেবাস অনুসরণ করবে।
নবগঠিত কর্তৃপক্ষের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক সুরজিৎ সিং গান্ধী বলেন, ইসলামিক পণ্ডিতদের সহায়তায় ইসলামী ধর্মীয় পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেবাসে ঘৃণা, সহিংসতা, চরমপন্থা বা শত্রুতা প্রচারের উদ্দেশ্যে উপাদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যক্রম ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে এবং সূত্রের খবর, শিক্ষা দফতরের অনুমোদনও মিলেছে। তবে এখনও তা কার্যকর করা হয়নি। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির নতুন খসড়াটি অনুমোদনের জন্য শিক্ষা দফতরে পাঠানো হবে। অনুমোদন পাওয়ার পর তা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
রাজ্যের সংখ্যালঘু শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তনের পর এই নতুন পাঠ্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর পাশ হওয়া উত্তরাখণ্ড মাইনরিটি এডুকেশন অ্যাক্ট, ২০২৫-এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের মাদ্রাসা এডুকেশন বোর্ড আইন এবং ২০১৯ সালের সংশ্লিষ্ট বিধি বাতিল করা হয়। ওই আইন ও বিধির মাধ্যমে আরবি ও ফারসি মাদ্রাসাগুলি পরিচালিত হতো।
গত ১ জুলাই বিধিবদ্ধ মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে USAME গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই কর্তৃপক্ষ রাজ্যে স্বীকৃত ছয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়া ও তদারকির দায়িত্ব পালন করছে। এই ছয়টি সম্প্রদায় হল মুসলিম, খ্রিস্টান, শিখ, পার্সি, জৈন ও বৌদ্ধ। রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৪৫০টি মাদ্রাসা নথিভুক্ত রয়েছে। যার অধিকাংশই হরিদ্বার এবং উধম সিং নগর জেলায় অবস্থিত।
স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে, উত্তরাখণ্ড বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে এবং কোনও নথিভুক্ত সোসাইটি, ট্রাস্ট অথবা কোম্পানির অধীনে পরিচালিত হতে হবে।
স্বীকৃতি পাওয়ার পর নির্ধারিত সাধারণ শিক্ষার পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্ত ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার অনুমতি পাবে প্রতিষ্ঠানগুলি। তবে আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনও পড়ুয়া বা কর্মীকে ধর্মীয় কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না। আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা অথবা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার মতো কাজের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল করা হতে পারে।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সংখ্যালঘু পরিচালিত স্কুলগুলিতে জাতীয় পাঠ্যক্রম এবং জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) অনুসরণ করে পড়াশোনা করাতে হবে।
এর আগে এপ্রিল মাসে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, জুলাইয়ের পরেও যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান রাজ্য শিক্ষা পর্ষদের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করবে না, সেগুলি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রাজ্য সরকার ২০০টিরও বেশি অস্বীকৃত মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছিল।

