Friday, October 9, 2026
Latestদেশ

‘ভোট চুরির প্রমাণ কোথায়?’, প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের পাশে ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনকে (ECI) সমর্থন জানিয়ে ‘স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহলের পরিকল্পিত প্রচার’-এর তীব্র সমালোচনা করলেন সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাইকোর্টের ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের প্রচারের ফলে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

একটি খোলা চিঠিতে ৪২ জন প্রাক্তন বিচারপতি বলেন, “যে দল পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ শাসন করেছে, এখন সেই দলই দাবি করছে যে যে ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা নির্বাচিত হয়েছিল, সেই ব্যবস্থাই কারচুপিতে ভরা।” যদিও চিঠিতে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বেছে বেছে মামলা করার অভিযোগ রয়েছে এমন কিছু সংগঠন এই দাবিগুলিকে আইনি বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিচারপতিদের অভিযোগ, “একটির পর একটি মামলা করা হয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রমাণ পেশ করা হয় না। আদালতকে একটি মঞ্চে পরিণত করা হয় এবং রায় নিজেদের পক্ষে না গেলেই তার সমালোচনা করা হয়।”

‘ভোট চুরি’র মতো অভিযোগ সংবাদমাধ্যমের সামনে করা হলেও আদালতে সেই অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেছেন প্রাক্তন বিচারপতিরা। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন যখন হলফনামার মাধ্যমে অভিযোগের প্রমাণ চায়, তখন তা জমা দেওয়া হয় না। নির্বাচনে পরাজয়ের পরই ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (EVM) নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, অথচ একই EVM-এ জয়ী হলে সেই প্রশ্ন ওঠে না।

প্রাক্তন বিচারপতিদের আরও অভিযোগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির সমালোচনা এখন অনেক ক্ষেত্রেই বৈধ সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অভিযোগ এবং হুমকির ঘটনাতেও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি করা হচ্ছে, সেগুলির সত্যতা কোনও আদালত এখনও প্রতিষ্ঠা করেনি।

নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনসিদ্ধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণ জনসাধারণের আস্থা দুর্বল করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা।

ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতিরা। তাঁদের মতে, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রক্রিয়া নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক দলগুলিকে নির্বাচন কমিশন ও আদালতের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। একইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে কোনও দাবি প্রচারের আগে তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদেরও তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতিরা। পাশাপাশি, আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের আবেদন জানানো হয়েছে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত এবং পঙ্কজ মিত্তল। এছাড়াও রয়েছেন বিভিন্ন হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি.সি. প্যাটেল, শুভ্র কমল মুখোপাধ্যায় এবং পরমোদ কোহলি।