Saturday, October 3, 2026
Latestদেশ

‘সবচেয়ে বড় আদর্শ’ মোদীকে জানালেন স্মিত, কঠিন সময়ে পাঠ করেছিলেন হনুমান চালিশা

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার দু’দিন পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভার্চুয়াল কথোপকথন করেন পাইলট স্মিত মচ্ছর। আবেগঘন সেই কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে নিজের ‘সবচেয়ে বড় আদর্শ’ বলে উল্লেখ করেন স্মিত। একই সঙ্গে বিমানের ককপিটে হামলার সময় তিনি কীভাবে হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন, তাও জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্মিত। তিনি বলেন, মোদীর সঙ্গে কথা বলা তাঁর কাছে অত্যন্ত বিশেষ মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়ে তিনি অত্যন্ত গর্বিত বোধ করেছেন এবং কখনও ভাবেননি যে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী স্মিতকে জানান, গোটা দেশ তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে। সংকটের মুহূর্তে তাঁর সাহসিকতারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

স্মিত জানান, কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করেন। বিমানের ককপিটে হামলার সময়ও তিনি হনুমান চালিশা পাঠ করছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‘যখনই সুযোগ পাই, ইতিবাচক থাকার জন্য আমি শুধু হনুমান চালিশা পাঠ করি। সেই সময়ও আমি শুধু হনুমান চালিশা পাঠ করছিলাম। এখন আমি জানি, তিনি শুধু ঈশ্বর নন, তিনি আমার রক্ষাকর্তা।’’

কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্মিতের মা গীতা বেনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভগবদ্গীতার মূল্যবোধ ও শিক্ষার মাধ্যমে গীতা বেন তাঁর সন্তানকে বড় করেছেন।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্মিত জানান, গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারছিলেন যে বিমানটি নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে। ১১ বছর ধরে তিনি ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছেন এবং চোখ বন্ধ করেও বিমানের পরিস্থিতি বুঝতে পারেন বলে জানান তিনি।

স্মিত বলেন, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কিছু না করলে সেটিই তাঁর জীবনের শেষ কয়েকটি মুহূর্ত হতে পারে। গুরুতর আহত অবস্থাতেও হামাগুড়ি দিয়ে ককপিটের দরজার কাছে পৌঁছে সেটি খুলে দেন। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্মিত আরও জানান, সৌদি আরব এবং পরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে তিনি উন্নত চিকিৎসা পেয়েছেন। তাঁর কথায়, এর চেয়ে ভালো চিকিৎসা ও চিকিৎসা-পরিষেবা পাওয়া কঠিন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ভারত গর্ব করে বলতে পারে যে ভারতীয়রা অন্যের প্রাণ নেওয়ার মানুষ নন; বরং অন্যের প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতেও তাঁরা প্রস্তুত।

বুধবার হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর স্মিতকে সৌদি আরব থেকে চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল হাসপাতালে গিয়ে স্মিত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, পাইলটের শারীরিক অবস্থা ভালো এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

স্মিত মচ্ছর ছিলেন ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ক্যাপ্টেন। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটিতে দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। সৌদি আরবের আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট ককপিটের ভিতরে স্মিতকে ছুরি দিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ।

গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও স্মিত ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন বলে জানা গিয়েছে। এরপর যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিমানটি নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সময় এক প্লাম্বার সাময়িকভাবে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে ঘুরিয়ে নিয়ে যান এবং সেখানে জরুরি অবতরণ করা হয়।