প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ল্যাবরেটরিতে নির্যাতিতার ভিসেরা পরিবর্তন করে দেওয়া হয়, অভয়া কান্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: আরজি করের অভয়া ধর্ষণ ও খুনের মামলায় এবার সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য, যা গোটা রাজ্য রাজনীতি ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে তোলপাড় করে দিয়েছে। রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে সংরক্ষিত তিলোত্তমার শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘ভিসেরা’ নমুনা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট বা পরিবর্তন করার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে নির্যাতিতার পরিবার। এক প্রাক্তন ফরেনসিক আধিকারিকের পাঠানো একটি চিঠির ওপর ভিত্তি করে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।
কী রয়েছে সেই চিঠিতে?
পরিবার সূত্রে খবর, দিনকয়েক আগে অভয়ার বাবার নামে একটি চিঠি আসে। চিঠির প্রেরক রাজ্য ফরেনসিক বিভাগেরই এক প্রাক্তন আধিকারিক। চিঠিতে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে:
ময়নাতদন্তের সময় তিলোত্তমার শরীর থেকে সংগৃহীত লিভার, কিডনি এবং পাকস্থলীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিসেরা নমুনা পরে বদলে ফেলা হয়েছে।
মৃত্যুর আগে তাঁকে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা জানার জন্য এই নমুনাগুলি অত্যন্ত জরুরি ছিল।
অভিযোগের তির রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে। এমনকি, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই এই প্রমাণ লোপাটের কাজ করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
শুধু রাজ্য ল্যাবরেটরিই নয়, সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (CFSL) পাঠানোর সময়ও এই নমুনা পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
পূর্ববর্তী মামলাতেও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ
প্রাক্তন ফরেনসিক আধিকারিকের পাঠানো ওই চিঠিতে আরও একটি বড় দাবি করা হয়েছে। সেখানে অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের একাধিক মামলাতেও এই একই তিন ফরেনসিক কর্মী একইভাবে ভিসেরা নমুনা নষ্ট বা বিকৃত করেছিলেন। যদিও এই দাবির সপক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নথি বা স্বাধীন তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসেনি।
আদালতের দ্বারস্থ পরিবার
মামলার অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েই বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চুপ করে বসে নেই নির্যাতিতার পরিবার।
“এত গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে প্রকৃত সত্য কখনই সামনে আসবে না এবং বিচারপ্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়বে।” — নির্যাতিতার পরিবার
প্রাপ্ত চিঠিটি এবার কলকাতার শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। আদালতের কাছে তাঁদের স্পষ্ট আবেদন থাকবে— এই গুরুতর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-কে দিয়ে একটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলি একযোগে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষী আধিকারিকদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে। তবে এই বিস্ফোরক অভিযোগ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগ বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য মেলেনি।
এখন সবার নজর শিয়ালদহ আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে। আদালত যদি এই চিঠির ভিত্তিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়, তবে অভয়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে, তা বলাই বাহুল্য।

