স্ট্রংরুমগুলির নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করলো নির্বাচন কমিশন
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দুই দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু স্ট্রংরুম। আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত ইভিএমে বন্দি ২৯৪টি বিধানসভা আসনের ভাগ্য। তাই নির্বাচন কমিশন গোটা ব্যবস্থাকে কার্যত ‘দুর্ভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে ৮৭টি করা হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে কয়েক গুণ কড়া। প্রতিটি স্ট্রংরুমের বাইরের বলয়ে রয়েছে রাজ্য পুলিশ, আর ভিতরের অংশে ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর সরকারি কলেজ-এ রাখা হয়েছে রাজারহাট-নিউটাউন, বিধাননগর এবং রাজারহাট গোপালপুর কেন্দ্রের ইভিএম। কলেজের পুরোনো ভবনে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরি করে সেখান থেকে সারাক্ষণ সিসিটিভি নজরদারি চালানো হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া কোনওভাবেই প্রবেশ সম্ভব নয়।
একই ছবি দেখা যাচ্ছে বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ-এ। এখানে চারটি বিধানসভার ইভিএম পাহারায় মোতায়েন রয়েছে ১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। দক্ষিণ কলকাতার এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ-এ সাতটি বিধানসভার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে ১২ কোম্পানি বাহিনী।
শুধু স্ট্রংরুমের ভেতরেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও জোরদার করা হয়েছে নজরদারি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে নাকা চেকিং, বেআইনি জমায়েত রুখতে জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। যাতে ইভিএমে কোনওরকম ক্ষতি না হয় বা কারচুপির সুযোগ না থাকে, তার জন্য ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ফল ঘোষণার দিন পর্যন্ত গোটা রাজ্য কার্যত কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। এখন শুধু অপেক্ষা—৪ মে, যখন খুলবে স্ট্রংরুমের দরজা এবং প্রকাশ্যে আসবে বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

