Monday, April 27, 2026
Latestরাজ্য​

ভুয়ো ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে জেল হতে পারে, সাফ জানালো নির্বাচন কমিশন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটের আগে কঠোর অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। ভুয়ো ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে শুধু ভোট বাতিলই নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করে জেল পর্যন্ত হতে পারে—এমনই স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার প্রতিটি বুথে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর অত্যাধুনিক ক্যামেরার মাধ্যমে বুথের ভিতরের প্রতিটি কার্যকলাপ রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই ক্যামেরাগুলির সংযোগ থাকবে কলকাতার কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ এবং জেলা স্তরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে, ফলে যেকোনও অনিয়ম দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

নির্বাচন দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির ফলে বুথের ভিতরে কোনওরকম অনিয়ম সহজেই ধরা পড়বে। কেউ ভুয়ো ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

কমিশন আরও জানিয়েছে, ভুয়ো ভোট দেওয়ার চেষ্টা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। দোষী প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। এমনকি অসাবধানতাবশত বা ভুলবশত এই ধরনের কাজ হলেও আইনি জটিলতা এড়ানো যাবে না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’ নীতিকে সুরক্ষিত রাখতে এই নজরদারি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষ যাতে কোনও অভিযোগ বা পরামর্শ সরাসরি জানাতে পারেন, তার জন্য বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থাও চালু রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ২,৪০৭টি কোম্পানির পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের সদস্যরাও দায়িত্বে থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক থাকছেন—মোট ১৪২ জন। এছাড়াও থাকছেন ৯৫ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক, যা প্রথম দফার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সব মিলিয়ে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।