Tuesday, October 20, 2026
Latestরাজ্য​

গত ৩৬ দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মোট ১০০টি কেন্দ্রে জনসভা এবং রোড শো করেছেন

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ২৩ মার্চ থেকে শুরু, শেষ ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায়। টানা ৩৬ দিনের প্রচারে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ—রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত চষে বেড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মোট ১০০টি বিধানসভা কেন্দ্রে জনসভা ও রোড শো করেছেন তৃণমূলের এই ‘সেনাপতি’। কিন্তু এই বিস্তৃত প্রচারসূচির মধ্যেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এড়িয়ে যাওয়ায় দলীয় অন্দরে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

কোথায় যাননি অভিষেক?

প্রচারে না-যাওয়া কেন্দ্রগুলির তালিকা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলে। সেই তালিকায় রয়েছে—

হাবরা (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক)

কলকাতা বন্দর (ফিরহাদ হাকিম)

টালিগঞ্জ (অরূপ বিশ্বাস)

মধ্য হাওড়া (অরূপ রায়)

আসানসোল উত্তর (মলয় ঘটক)

দমদম (ব্রাত্য বসু)

চন্দননগর (ইন্দ্রনীল সেন)

এছাড়াও বেলেঘাটা (কুণাল ঘোষ), চৌরঙ্গি (নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়), কামারহাটি (মদন মিত্র) —এই কেন্দ্রগুলিতেও দেখা যায়নি অভিষেককে।

পুরনো বিতর্কের ছায়া?

এই অনুপস্থিতির তালিকাকে ঘিরে ফের সামনে আসছে ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ বিতর্ক। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তৃণমূলের অন্দরে এই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। তখন অভিষেক নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন রাজনীতিতে অবসরের বয়স থাকা উচিত, যা ৬৫ বছরের বেশি নয়।

যদিও পরবর্তী সময়ে লোকসভা নির্বাচনে প্রবীণ নেতাদেরই টিকিট দেয় দল। উত্তর কলকাতায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দমদমে সৌগত রায়, শ্রীরামপুরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়—এই তিন নেতার কেন্দ্রেও প্রচারে যাননি অভিষেক। সেই ধারাবাহিকতার প্রতিফলনই কি এবারও?

সমীকরণ কি এতটাই সরল?

তবে চিত্রটা একেবারে সরল নয় বলেই মত তৃণমূলের একাংশের। কারণ, অভিষেকের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেই পরিচিত কয়েকজন নেতার কেন্দ্রেও তিনি যাননি। যেমন—

শ্যামপুকুর (শশী পাঁজা)

উলুবেড়িয়া পূর্ব (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়)

চাঁপদানি (অরিন্দম গুঁইন)

ফলে শুধুমাত্র ‘অপছন্দের নেতা’ বা ‘প্রবীণ বনাম নবীন’ সমীকরণ দিয়ে এই তালিকাকে ব্যাখ্যা করা কঠিন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কী ইঙ্গিত মিলছে?

লোকসভা নির্বাচনের সময় অভিষেকের প্রচারসূচিতে একটি নির্দিষ্ট ‘ধাঁচ’ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতা নেই। বরং একাধিক ফ্যাক্টর—সংগঠন, স্থানীয় সমীকরণ, প্রার্থী নির্ভর কৌশল—সব মিলিয়েই এই প্রচার পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকাশ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব এই নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও, অন্দরে এই ‘না-যাওয়ার তালিকা’ যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ—তা মানছেন দলেরই একাংশ। নির্বাচনের ফলাফলে এই কৌশলের প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।