‘সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাফিয়ার প্রতীক’, তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ যোগী আদিত্যনাথের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে এসে শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ শানালেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবার একাধিক জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার “সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাফিয়ার প্রতীক”-এ পরিণত হয়েছে।
নদিয়ার নবদ্বীপ কেন্দ্রের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ বাংলা একসময় দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তুলেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই রাজ্যই নিজের পরিচয় সংকটে ভুগছে। তাঁর কথায়, “কে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, তা বাংলার মানুষকে ভাবতে হবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর অভিযোগ, গরু পাচার, বালু ও জমি মাফিয়াদের দাপটে রাজ্যের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি যুবসমাজের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি। উত্তরপ্রদেশে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের মাধ্যমে এই ধরনের সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
শাসক দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। একইসঙ্গে অভিযোগ করেন, দুর্গাপুজো ও ধর্মীয় শোভাযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তৃণমূলের “খেলা হবে” স্লোগানের পাল্টা হিসেবে তিনি বলেন, “এবার ‘খেলা শেষ, উন্নয়ন শুরু’-র সময় এসেছে।”
এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি এবং দাবি করেন, রাজ্যে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, প্রথম দফার ভোটে ব্যাপক অংশগ্রহণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন।
এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো উন্নয়নের টাকা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আত্মসাৎ করছেন বলেও অভিযোগ করেন যোগী। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে এই আইনের বিরোধিতা করছে তৃণমূল। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাগরিকত্বের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে বিজেপির প্রচারে আক্রমণাত্মক সুর আরও তীব্র হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


