Saturday, May 2, 2026
কলকাতা

মোথাবাড়ি কান্ডের পিছনে ‘সুপরিকল্পিত বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে, অনুমান NIA-এর

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: মালদার মোথাবাড়ি এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে যে অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে, তা ঘিরে সামনে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে নেমে National Investigation Agency (এনআইএ)-র অনুমান, এই ঘটনা শুধুমাত্র ভোটার তালিকা সংশোধন SIR (এসআইআর) নিয়ে আতঙ্কের ফল নয়, এর পিছনে থাকতে পারে সুপরিকল্পিত বৃহত্তর ষড়যন্ত্র।

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে”—এই ভয় ছড়িয়েই প্রথমে সাধারণ মানুষকে একত্রিত করা হয়। হঠাৎ করে বড় জমায়েত, আন্দোলনের ধরন এবং উত্তেজনার দ্রুত বিস্তার—সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় সংগঠিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এনআইএ সূত্রে খবর, সেই ভিডিওগুলিতে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও প্ররোচনার ইঙ্গিত মিলেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই ভিডিওগুলিই সম্ভাব্য বড় কোনও ষড়যন্ত্রের প্রাথমিক সূত্র হতে পারে।

ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই কলকাতা থেকে এনআইএ-র একটি বিশেষ দল মোথাবাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট সোনিয়া সিং (Sonia Singh), এনআইএ-র আইজি-কে জানানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, এনআইএ দলটি প্রশাসনিক, কার্যনির্বাহী এবং মাঠ পর্যায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য তাদের কর্মকর্তাদের তিনটি পৃথক দলে বিভক্ত করেছে।

ঘটনার দিন পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, কখন তারা খবর পেয়েছিল এবং কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে এই সমস্ত বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে এনআইএ। তদন্তের পরবর্তী ধাপে এফআইআর দায়ের হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে মোথাবাড়িতে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় ক্ষুব্ধ মানুষজন দিনভর পথ অবরোধ করেন। পরে রাত পর্যন্ত কালিয়াচক-২ নম্বর বিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।

পরিস্থিতি চরমে ওঠে যখন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে কোনওমতে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-র তরফে এই মামলার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বর্তমানে গোটা ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা থাকলেও, এর পিছনে আরও বড় কোনও উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে কি না—সেই প্রশ্নই এখন তদন্তের মূল।