Saturday, May 2, 2026
Latestরাজ্য​

ফলতায় পুনর্নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। ভোটপর্ব মিটলেও পরিস্থিতি এখনও থিতু হয়নি। শনিবার ফের অশান্তির ছবি সামনে এল হাসিমনগর এলাকায়, যেখানে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বুধবার ভোটগ্রহণের দিন তাঁদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। বিশেষ করে বঙ্গনগর ২ পঞ্চায়েত প্রধান ইশরাফুল চকদারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্রামবাসীদের দাবি, তিনি ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ঘনিষ্ঠ এবং তার মদতেই এলাকায় ভয়ভীতি ছড়ানো হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ি ভাঙচুর, শাসানি এবং ফল ঘোষণার পর ‘দেখে নেওয়া’র হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রতিবাদে নামতেই তাঁদের উপর লাঠিচার্জ করা হয়। এরপর থেকেই ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে এবং গোটা এলাকা জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ ও স্লোগান।

এক বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর কথায়, তিনি নিজেই ভোট দিতে পারেননি। তাঁর দাবি, “বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাইরে বেরোলে মারধর বা খুনের ভয় দেখানো হয়েছে।” অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধানের গ্রেফতারের দাবিতে মিছিল করছেন তাঁরা।

এক মহিলা বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের উপর অত্যাচার করেছে। তাঁর কথায়, “কোনওমতে ভোট দিয়েছি, কিন্তু নিরাপত্তা নেই। কেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হবে?” অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দার সাফ দাবি, পুনর্নির্বাচনই একমাত্র সমাধান।

পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে জওয়ানদের টহল জারি রয়েছে। তবে তাতেও পুরোপুরি থামেনি উত্তেজনা। বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে এলাকা, যা পরিস্থিতির জটিলতাকেই আরও স্পষ্ট করছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, এই ফলতা কেন্দ্রটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে রাজ্যজুড়ে ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের আবেদন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ৩২টি বুথই রয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বলে জানা গিয়েছে। কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এদিকে ৪ মে ভোট গণনার আগে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। আপাতত কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, চাপা উত্তেজনা যে এখনও কাটেনি, তা স্পষ্ট। ফলতা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে অন্যতম স্পর্শকাতর কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।