Monday, March 9, 2026
Latestরাজ্য​

ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে ধর্মতলায় ধর্নায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে ধর্না কর্মসূচিতে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের সামনে ধর্না-অবস্থানে বসেন তিনি। এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত ভোটার তালিকা ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির প্রতিবাদেই এই ধর্না। গত শনিবার প্রথম দফায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। সেই তালিকায় সাড়ে ৬৩ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিকে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা বলে দাবি করছে তৃণমূল।

এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা দিল্লি পর্যন্ত গিয়েছেন এবং আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। এমনকি এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় দেশের শীর্ষ আদালতে (Supreme Court of India) নিজেই সওয়াল করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

১ মার্চ এক সাংবাদিক বৈঠকে এই ধর্না কর্মসূচির ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন গড়ে তুলতেই এই কর্মসূচি।

শুক্রবার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে দলের অন্যান্য নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে ধর্নায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে ফের একবার আন্দোলনের রাজনীতিতে সক্রিয় উপস্থিতি জানান দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

উল্লেখ্য, ধর্মতলার এই মেট্রো চ্যানেলই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০০৬ সালে সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে ঠিক এই জায়গাতেই দীর্ঘদিন ধর্নায় বসেছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ছিলেন বিরোধী দলের নেত্রী। বর্তমানে তিনি টানা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হলেও আন্দোলনের রাজনৈতিক ধারা যে বদলায়নি, তা বারবার প্রমাণ করেছেন।

২০০৬ সালের পর ২০০৮, ২০১৯ সহ বিভিন্ন সময়ে নানা দাবিতে ধর্না কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও মাঠে-ময়দানে নেমে আন্দোলন করার প্রবণতা যে এখনও অটুট, ধর্মতলার এই নতুন কর্মসূচি তারই আরেকটি উদাহরণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।