১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করলো অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ডিজিটাল আসক্তি রুখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু (N. Chandrababu Naidu) ঘোষণা করেছেন, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এই নিষেধাজ্ঞা আরও কড়া হতে পারে। প্রয়োজনে বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৬ বছর পর্যন্ত করা হতে পারে। তবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নীতি সংক্রান্ত আরও আলোচনা ও পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের মতে, শিশুদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি। অভিভাবক, শিক্ষক এবং মনোবিদদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিলেন যে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সরকারের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় অবাধে ছড়িয়ে থাকা নানা ধরনের কনটেন্ট শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এর ফলে—
- মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা
- পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
- সাইবার বুলিং
- ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি
এসব সমস্যা বাড়ছে। তাই ছোটদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ।
একই পথে কর্ণাটক
অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি একই ধরনের ঘোষণা করেছে কর্ণাটক সরকারও। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া (Siddaramaiah) বিধানসভায় জানিয়েছেন, রাজ্যে ১৬ বছরের নিচে থাকা শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
২০২৬–২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার সময় তিনি জানান, শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোনের আসক্তি দ্রুত বাড়ছে। সেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতেই এই উদ্যোগ।
শিক্ষাক্ষেত্রে জোর কর্ণাটকের বাজেটে
কর্ণাটক সরকার একই সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের ওপরও জোর দিয়েছে। ২০২৬–২৭ সালের বাজেটে শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রধান ঘোষণাগুলির মধ্যে রয়েছে—
আগামী কয়েক মাসে স্কুল ও কলেজে ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ।
স্কুলে নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৫৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরও শৌচাগার নির্মাণে ৭৫ কোটি টাকা।
স্কুলের আসবাবপত্রের জন্য ২৫ কোটি টাকা।
সরকারি স্কুল ও কলেজের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ১২৫ কোটি টাকা।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই উদ্যোগগুলির লক্ষ্য হল শিক্ষার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত পরিবেশ তৈরি করা।
ডিজিটাল নীতিতে নতুন বিতর্ক
অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকের এই সিদ্ধান্ত নতুন করে ডিজিটাল স্বাধীনতা বনাম শিশু সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় এমন উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার বদলে সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাই বেশি কার্যকর হতে পারে।
তবে দুই রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে, শিশুদের মধ্যে বাড়তে থাকা সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তিকে এখন বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে রাজ্য সরকারগুলি।


