Thursday, February 26, 2026
Latestদেশ

ইসলামে মূর্তি পুজো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, শ্রীনগরে ‘আল্লাহ আকবর’ বলে ভাঙা হল অশোক স্তম্ভ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরে হযরতবাল দরগায় ‘অশোক স্তম্ভ’ স্থাপিত ফলক ভেঙে ফেলেছে একদল মৌলবাদী গোষ্ঠী। হামলাকারীরা দাবি করেছে, অশোক স্তম্ভ ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি ইসলামের ঐতিহ্য ও বিশ্বাসকে অবজ্ঞা করেছে। এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা তানভীর সাদিক সংবাদমাধ্যমে বলেন, “ইসলামে মূর্তি পুজো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এই জাতীয় প্রতীক ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের পরিপন্থী।” তানভীর সাদিক আরও ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে লিখেছেন, “তাওহীদের পবিত্রতা প্রতিফলিত হওয়া উচিত ইসলামিক স্থানগুলিতে, অন্য কিছু নয়।” যদিও তিনি সরাসরি ফলক ভাঙার অভিযোগে তার হাত থাকার কথা স্বীকার করেননি। তবে উস্কানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মানুষকে উস্কে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, তার বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীরের জঙ্গিদের আশ্রয়দানের অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারপার্সন ও বিজেপি নেত্রী ডঃ দরখশান আন্ধ্রাবি। তিনি এই ঘটনা ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ডঃ আন্ধ্রাবি অভিযোগ করেন, “তানভীর সাদিকই দরগায় অশোক স্তম্ভ বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন এবং তিনিই এই হামলার মদতদাতা।”

স্থানীয় মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একাধিক রাজনৈতিক দল এবং মানবাধিকার সংস্থাও ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অশোক স্তম্ভ ভারতের জাতীয় প্রতীক, যা ঐক্য, শান্তি ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে গণ্য। এই ধরনের আঘাতকে সংবিধান বিরোধী এবং জাতিগত সম্প্রীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এই বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীনগরের রাজনৈতিক এবং সামাজিক অঙ্গনে নতুন ধরনের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কিভাবে দাঁড়াবে, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।