Thursday, June 25, 2026
কলকাতা

২০০ দিনের বেশি অনশনরত মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষকদের দিকে তাঁকান মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০০ দিনের অধিক অনশনরত মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত কৃষক পরিবারের ছেলেমেয়েগুলোর দিকে তাঁকান; মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আর্জি এসএসসি মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত শিক্ষকদের (SSC Candidates)।

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষকের ন্যায্য দাবীর পক্ষে জোড়ালো সওয়াল করলেন; এদিকে তাঁরই রাজ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত ২০০ দিনের অধিক অনশনরত মেধাতালিকাভুক্ত খেটে খাওয়া কৃষক; দিনমজুর পরিবারের ছেলেমেয়েদের কোনও সুরাহা করলেন না; যে প্রতিশ্রুতি তিনি নিজে ২০১৯ সালে প্রেস ক্লাবের সামনে দিয়েছিলেন স্কুল সার্ভিস কমিশনের দুর্নীতি সম্পর্কে অবগত হয়ে।

তিনি বলেছিলেন, মেধাতালিকাভুক্ত সকল প্রার্থীর চাকরি তিনি সুনিশ্চিত করবেন। তার উপর ভরসা রাখতে। তিনি কথা দিলে কথা রাখেন। তাহলে কেন ২০০ দিন এর ও বেশী সময় ধরে ন্যায্য চাকরী চাইতে গিয়ে শীত;ঝড়; মহামারীর প্রচণ্ডতাকে উপেক্ষা করে অনশন ও অবস্থান বিক্ষোভ করতে হবেশিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় মেধাতালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রথম দফায় ডাক পেয়ে?তাহলে কেন তাদের বিকাশ ভবন; আচার্য সদন; তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী; বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী; মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে পুলিশের অত্যাচার সহ্য করেও ন্যায্য চাকরী চাইতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হতে হবে?

মুখ্যমন্ত্রী দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত সকল মেধাতালিকাভুক্ত চাকরী প্রার্থীর চাকরি সুনিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ ও কেন পুজোর মরসুম গুলো তাদের রাস্তায় কাটাতে হয়? কেন আত্মঘাতী হয় মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত প্রার্থী? কেন কৃষক মেহেনতি মজদুর সমাজের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় পাশ করেও দুর্নীতির শিকার হয়ে বঞ্চিত ই থেকে যায়? কেনো দুর্নীতির বলি হতে হয় শিক্ষিত মেধার? এটাই কি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত মেধার চরম পরিণতি? অসহায় সন্তান হারা মায়ের কান্না শুনতে পাচ্ছেন মাননীয়া? ন্যায়ের দেবী বাংলার জননী আপনার সুবিচার কি তবে অধরাই থেকে যাবে? বঞ্চিতদের সমস্যা সমাধানের জন্য মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর পুনরায় হস্তক্ষেপ চাইলেন তার প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করে সম্পুর্ণ অরাজনৈতিকভাবে ২০০ দিন অতিক্রান্ত আন্দোলনকারী মেধাতালিকায় প্রথম দফায় ডাক পেয়েও সুপরিকল্পিত ভাবে বঞ্চিত হবু শিক্ষকরা।

বঞ্চিত মেধাতালিকাভুক্ত আন্দোলনকারী সুখেন সরকার; রাকিব হোসেন; তমা হোসেন; কোয়েল দে; আরব গাজী জানিয়েছেন; আজ স্কুল গুলো শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এদিকে মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত প্রার্থীরা রাস্তায় বসে আছে তাদের ন্যায্য অধিকারের দাবীতে। শীত; ঝড়; মহামারীর প্রচণ্ডতাকে উপেক্ষা করে তাদের দিন কাটে রাস্তায়। ন্যায্য চাকরীর দাবীতে মেয়েদের রাত কাটে অনশন মঞ্চে।

তাঁদের প্রশ্ন ; যে স্কুল সার্ভিস কমিশন আজ আইন দেখাচ্ছে তারা কোন আইনে নিজের গেজেট কে লঙ্ঘন করে নাম্বার প্রকাশ না করে মেধাতালিকা প্রকাশ করে? কোন আইনে নিজের গেজেটে উল্লেখিত ১:১.৪ নিয়ম না মেনে নিয়োগ করে? কোন আইনে মেধাতালিকায় পেছনের সারিতে থাকা প্রার্থীকে আগে নিয়োগ দেয়? কোন আইনে এস এম এসে অবৈধ নিয়োগ দেয় গেজেট কে লঙ্ঘন করে? কোন আইনে অকৃতকার্য প্রার্থীরা চাকরি পায় আর কোন আইনে মেধাতালিকাভুক্ত প্রথম দফায় ডাক পেয়েও বঞ্চনার শিকার হয়?

বঞ্চিত মেধাতালিকাভুক্তরা আরও জানিয়েছেন; স্কুল সার্ভিস কমিশন নিজের গেজেটকে মান্যতা দিয়েই রেশিও মেনে ১:১.৪ অনুপাতে নিয়োগ করে আইনি পথে মেধাতালিকাভুক্ত সকলের চাকরী সুনিশ্চিত করুক।তবেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির যথাযথ বাস্তবায়ণ হবে। তাদের আশা মুখ্যমন্ত্রী তার প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ণ করে মেধাতালিকাভুক্ত বঞ্চিত প্রার্থীদের প্রতি সুবিচার করবেন ; পাশাপাশি এর মাধ্যমে স্কুলে শিক্ষক সংকট এর ও সামাধান করবেন।