উত্তরপ্রদেশের স্কুলে সংবাদপত্র পাঠ বাধ্যতামূলক, বড় ঘোষণা যোগী সরকারের
কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: ছাত্রছাত্রীদের ডিজিটাল আসক্তি কমিয়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে বড় পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে প্রতিদিন বাধ্যতামূলকভাবে সংবাদপত্র পাঠের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে মুদ্রিত মাধ্যমে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সামগ্রিক জ্ঞান ও বিশ্লেষণী দক্ষতা বাড়ানোই লক্ষ্য প্রশাসনের।
২৩ ডিসেম্বর জারি হওয়া নির্দেশিকায় অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (শিক্ষা) পার্থ সারথি সেন শর্মা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, স্কুল লাইব্রেরিতে ইংরেজি ও হিন্দি—দু’ধরনের সংবাদপত্রই রাখতে হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম পড়ার সুযোগ পেলে ছাত্রছাত্রীরা দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির সঙ্গে পরিচিত হবে এবং তাদের কৌতূহল ও বোধশক্তি আরও তীক্ষ্ণ হবে বলে মনে করছে সরকার।
বেসিক এডুকেশন দফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকালে স্কুল অ্যাসেম্বলির সময় এই কর্মসূচি শুরু হবে। ছাত্রছাত্রীরা গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়ে শোনাবে, যার মাধ্যমে উচ্চারণ, আত্মবিশ্বাস ও সাধারণ জ্ঞান বাড়বে। আধিকারিকদের মতে, নিয়মিত মানসম্মত সাংবাদিকতার সংস্পর্শে এলে ভাষার উপর দখল যেমন বাড়বে, তেমনই বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনাও বিকশিত হবে।
নির্দেশিকায় বয়সভিত্তিক বিশেষ শিক্ষাক্রমও নির্ধারণ করা হয়েছে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের প্রতি সপ্তাহে সম্পাদকীয় প্রবন্ধ লেখা ও সামাজিক-উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে শ্রেণিকক্ষে বিতর্কে অংশ নিতে হবে। এর মাধ্যমে সমাজের সঙ্গে তাদের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি মিলবে।
অন্যদিকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা বিজ্ঞান, খেলাধুলো ও পরিবেশ সংক্রান্ত খবর কেটে স্ক্র্যাপবুক তৈরি করবে। পড়াশোনাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে সংবাদপত্রের সুডোকু ও ক্রসওয়ার্ড নিয়ে সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতাও আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা যুক্তিবোধ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা কেবল পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমাজ-সচেতন, বিশ্লেষণক্ষম ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারবে।


