Sunday, April 26, 2026
Latestরাজ্য​

সাসপেনশনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হিঙ্গলগঞ্জ ও ডায়মন্ড হারবারে নতুন ৬ পুলিশ আধিকারিক নিয়োগ

কলকাতা ট্রিবিউন ডেস্ক: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে প্রশাসনিক কড়াকড়ি আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। হিঙ্গলগঞ্জ ও ডায়মন্ড হারবারে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে ছয় পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করার মাত্র একদিনের মধ্যেই নতুন নিয়োগের ঘোষণা করা হল।

শনিবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হিঙ্গলগঞ্জ থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই রাহুল হালদারকে। এর পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নতুন আধিকারিকদের বসানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী—

আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদারকে ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মহকুমা পুলিশ আধিকারিক (SDPO) পদে দায়িত্ব পেয়েছেন বিজয় যাদব।

ফলতা থানার আইসি হয়েছেন ইন্সপেক্টর পার্থ সারথী ঘোষ।

ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি হিসেবে দায়িত্বে এসেছেন ইন্সপেক্টর প্রসেনজিৎ কর, যিনি আগে সাইবার ক্রাইম উইংয়ে কর্মরত ছিলেন।

উস্তি থানার ওসি পদে আনা হয়েছে ডিআইবি-র রাহুল কুমারকে।

সব আধিকারিককেই অবিলম্বে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেই কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে হিঙ্গলগঞ্জ থানার ওসি-সহ ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পাঁচ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছিল কমিশন। শুধু সাসপেনশনই নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

২০২৬-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে কমিশনের একের পর এক কড়া পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভোট ঘোষণার দিনেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিককে সরানো হয়। এমনকি কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও ডিজি-সহ বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদেরও রাতারাতি বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য সরকারের আপত্তিও সামনে আসে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং বিষয়টি নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠিও দেন। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালেও, শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়—নির্বাচনের সময় আধিকারিক বদলি নতুন কিছু নয়।

নির্বাচন কমিশনের তরফে বারবারই স্পষ্ট করা হয়েছে, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। পুলিশ প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কোনও রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করার কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক নজরদারি ও কঠোরতা যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট এই পদক্ষেপেই।